শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরের চরউমেদে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে গুরুতর আহত ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩, ৩:২০ পিএম
মতলব উত্তরের চরউমেদে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে গুরুতর আহত ৪

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের চরউমেদ গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জেড় ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় চরউমেদ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার ওই গ্রামের বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. শামীম হোসেন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বিবাদীরা হলেন, চরউমেদ গ্রামের মো. ইউসুফ বেপারী (৩৮), বশির উল্লাহ বেপারীর ছেলে মো. বাহাদুর বেপারী (২৪), আলাউদ্দিন সরকারের ছেলে মো. জিয়া সরকার (৩৭), আল ইসলাম বেপারীর ছেলে মো. ইসমাইল বেপারী (২৬), খোকন বেপারীর ছেলে মো. রফিক বেপারী (২৮), কলিম উল্লাহ বেপারীর ছেলে মো. আলমঙ্গীর বেপারী (২৫), আঃ ছাত্তার বেপারীর ছেলে মো. মামুন বেপারী (৩০), দেলোয়ার হোসেন সরকারের ছেলে মো. দ্বীন ইসলাম (২৮), আমির হোসেন বকাউলের ছেলে আবুল কালাম প্রকাশ কালা (২৪)। শনিবার দুপুরে মতলব উত্তর থানার এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই রমিজ উদ্দিন’সহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রতার জেড় ধরে বোরহান উদ্দিন বেপারীর মো. মুকুল বেপারী (৫০), মো. হযরত ছৈয়ালের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (১৮), মৃত হাসেম প্রধানের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন প্রধান (৩৮), মো. লাভলু বেপারীর ছেলে মো. জামান (১২), সুরুজ ঢালীর ছেলে মো. জহির পন্ডিত (৩৭), সরাফত আলী পেদার ছেলে মো. দুলাল পেদা (৩৮), ও হাসেম প্রধানের ছেলে মো. হানিফ প্রধান (৪০) এর উপর বিবাদীরা অতর্কিত হামলা করে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও পাইপগ্যান নিয়ে উথাল পাথাল গুলি চালায়। এতে করে তারা বেশ আহত হন। এছাড়াও মুকুল বেপারী (৫০), মো. সাইফুল ইসলাম (১৮), মো. নাছির উদ্দিন প্রধান (৩৮), মো. জামান (১২) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

Model Hospital

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সকল বিবাদীরা সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা হাতে লাঠি-সোটা, দা, ছেনা, পিস্তল, ককটেল বোম ইত্যাদি অস্ত্র সঙ্গে সজ্জিত হয়ে বে-আইনী জনতাবদ্ধে আমার ভাই ১নং সাক্ষাীর পথরোধ করে সৃষ্টি করে ঘটনাস্থলে আক্রমন করে।

১নং বিবাদী ১নং সাক্ষীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে এলোপাথারী গুলি করিলে, আমার ভাইয়ের ডান চোখের ভিতর এবং মুখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুঠিয়ে পড়লে, ২, ৩, ৪, ৫নং বিবাদীরা লাঠি সোটা, লোহার রডদ্বারা এলোপাথারী পিটিয়ে হাতে, পায়ে, পিঠে কোমড়ে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ছেনা ও নিলাফুলা জখম করে। ২নং সাক্ষী ১নং সাক্ষীকে রক্ষা করিতে আগাইয়া গেলে, ২নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা লোহার পাইপদ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে ২নং সাক্ষীর মাথা করে বারি মারিলে, উক্ত বারি ২নং সাক্ষী তাহার হাতদ্বারা প্রতিহত করিতে গেলে, উক্ত বারি ২নং সাক্ষীর বাম হাতে পড়ে গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম প্রাপ্ত হন। ৩নং, ৪নং এবং ৫নং বিবাদীরা ৩নং এবং ৪নং স্বাক্ষীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী গুলি করিলে, ৩নং সাক্ষীর মাথায়, হাতে গুলিবিদ্ধ হইয়া গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয় এবং ৪নং সাক্ষীর মাথার ডান পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। ৫,৬,৭,৮ এবং ৯নং বিবাদীরা সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা

৩নং সাক্ষীকে এলোপাথারী পিটিয়ে ও লাথি ঘুসি মেরে ৩নং সাক্ষীর শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলাফুলা জখম করে। ৭নং বিবাদী ১নং সাক্ষীর সাথে থাকা নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গোলাগুলির শব্দে ও জমীদের ডাক চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে থাকলে, আমাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ক্ষতি সাধন সহ সময় সুযোগে আমাদেরকে স্বপরিবারে খুন করে লাশ শুম করিবে বলে প্রকাশ্য হমিক প্রদান করে ঘটনাস্থল থেকে সকল বিবাদীরা সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা দ্রুত চলে যায়।

বাদী শামীম হোসেন বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে, স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় সকল জখমীদেরকে উদ্ধার করে, আশংকাজনক অবস্থায় দ্রুত স্পিটবোটদ্বারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে ভর্তি করি। জখমীগন উক্ত হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তেছে।

আমি আইনের কাছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার চাই।

এদিকে শনিবার বিবাদীদের সাথে কথা বলার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করলে তাদের পাওয়া যায়নি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’