বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাবির লাথিতে প্রাণ গেল স্বামী পরিত্যক্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩, ৩:৫৬ পিএম
মতলব দক্ষিণে পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাবির লাথিতে প্রাণ গেল স্বামী পরিত্যক্তার
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাবি কোহিনূর আক্তারের লাথিতে প্রাণ গেল মাকসুদা বেগম (৫০) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তার। রবিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বহরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে রয়েছেন মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ।
জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে নিহত মাকসুদার বিয়ে হয়। বিয়ের পাঁচ বছর পর তাঁর সঙ্গে স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়। সংসার জীবনে মাকসুদার ঘরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। ওই মেয়েটির অনেক আগেই বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির সময় সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাকসুদাকে ৫০ হাজার টাকা দেন তাঁর স্বামী। ওই টাকা জমা রাখা হয় মাকসুদার ভাই মনির হোসেনের কাছে। কিন্তু অদ্যাবধি মনির ওই টাকা মাকসুদাকে দেননি।
এ নিয়ে প্রায়ই মনির ও মাকসুদার মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাকসুদাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন তাঁর ভাবী কোহিনুর আক্তার।
গতকাল মনির হোসেন গরু বিক্রি করে তিন লাখ টাকা পান। সেখান থেকে ওই ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করেন মাকসুদা। কিন্তু মনির ওই টাকা দিতে অপারগতা জানান। রবিবার বিকেলে পুনরায় মাকসুদা তাঁর পাওনা ৫০ হাজার টাকা চাইলে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন মনির।
এ নিয়ে মনির, মাকসুদা ও মনিরের স্ত্রী কোহিনুরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কোহিনুর সজোরে ননদ মাকসুদার তলপেটে লাথি মারেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন। এরপর ঘটনাস্থলেই মারা যান মাকসুদা। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারের জন্য মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে রয়েছেন পুলিশের একাধিক সদস্য।
মতলব দক্ষিণ থানার এসআই মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে আছেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।