বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের পর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পকেট গেইট খোলা হয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০২৩, ৩:৪৯ পিএম
সংবাদ প্রকাশের পর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পকেট গেইট খোলা হয়েছে

সজীব খান : চাঁদপুরের স্থানীয় প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যাতায়াতে দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখা প্রধান পথটির পকেট গেইট খুলে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের পথ বন্ধ হওয়ায় জনদুর্ভোগ এ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর চাঁদপুর টেকনিক্যাল সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুর রহমান পকেট গেইটটি খুলে দেন।

টেকনিক্যাল সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুর রহমান বহু দিন যাবৎ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যাতায়েতের একমাত্র পথটি বন্ধ করে রাখেন। এ নিয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, সদর ইউএনও তাকে গেইটটি খুলে দেওয়ার জন্য বলেলে ও তিনি কোন প্রকার কর্ণপাত না করে খামখেয়ালী ভাবে সরকারি অফিসের পথ নিজের দাবি করে বন্ধ রাখেন।

সরকারি রাস্তা, সরকারি অফিসের পথ কিভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে এ নিয়ে সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আলোচনা ঝড় উঠেছে। চারদিক খোলা রেখে একটি সরকারি অফিসের পথ বন্ধ করে নিরাপত্তার কথা বলে আরেকটি সরকারি অফিস পথ বন্ধ রাখা কতটুকু যুক্তিযুক্ত এমন প্রশ্ন সকলের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে।

Model Hospital

সদর উপজেলা প্রশাসনের কথা অমান্য করেই তিনি পথটি বন্ধ রাখেন। কোন অদৃশ্য খুটির জোরে সরকারি অফিসের পথটি তিনি বন্ধ রাখেন। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠে সবার মাঝে। পথটি বন্ধ থাকার কারনে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নিয়মিত যাতায়েতের বিঘ্ন ঘটছে তাদের।

গতকাল সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পথের পুরো গেইট না খুলে পকেট গেইট খুলে দেন। তবে যে ভাবে পকেট গেইট খুলে রাখা হয়েছে। তাতে বুঝার উপায় নেই, যে পকেট গেইটটি খুলে রাখা হয়েছে। গেইটের সাথে ইটের স্তপের কারনে গেইট যে খোলা তা বুঝার কোন উপায় নেই।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা ও দেখেনা যে পকেট গেইটটি খুলে দেওয়া হয়েছে। পকেট গেইট খুলে দেওয়া হয়েছে, তাদের কাউকেই অবগত তিনি করেননি। দুইটাই সরকারি প্রতিষ্ঠান, তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের যাতায়েতের পথ আটকে রেখে এক আলোচনার ঝড় উঠিয়েছেন। পুরো অফিস টাইম গেইটটি খুলে রাখার দাবি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকাসহ সচেতন মহল।

সদর উপজেলায় মোট ৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২শত শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে। ১শত ১৫জন দপ্তরী কাম প্রহরী রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিয়ত কয়েকশতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যাতায়েত করতে হবে। অনেক অফিসার, শিক্ষক মোটর সাইকেল নিয়ে অফিসে আসেন, কিন্তু এখানে এসেই দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। টেকনিক্যাল স্কল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান এসে কোন উৎস পেয়ে সরকারি এ অফিসের পথ বন্ধ করে রাখেন।

সদর উপজেলার অনেক টিচার সন্তান সম্ভাবনা এবং অসুস্থ্য রয়েছে, তাদের প্রত্যোকেই অফিসের কাজে আসতে হয়, এ ছাড়া ও অনেক প্রতিবন্ধী অফিসের তাদের পেনশনের কাজে আসতে হয়। কিন্তু অফিস থেকে শতভাগ সরকারি সেবা দেওয়া হলেও পথটির জন্য দুর্ভোগের অন্তঃ থাকেনা তাদের। এটা কোন শক্তি নেই এটা খোলবে, এমন কথা নাকি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে। এটা নাকি ওনার সম্পত্তি, তাই সেখানে তিনি গেইট দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি সম্পত্তি নিজের বলে দাবি কতটুকু যুক্তিযুক্ত এমনটাই সর্বস্তরের শুনা যাচ্ছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই জানান, এ গেইটি দেওয়ার কারনে আমাদের অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের যাতায়েতের মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সমক্ষীন হতে হচ্ছে। আমাদেরটা ও সরকারি অফিস, ওনারটা ও সরকারি। রাস্তাটিতো করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে যাতায়েতের জন্য। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এ রাস্তাটি বহু বছর ব্যবহার করে আসছে, যাতায়েত করছে। কিন্তু হঠাৎ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ কোন কারন ছাড়াই পথটি বন্ধ করেন। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সিনয়র সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানের সাথে টেশনিক্যাল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অপ্রত্যাশিত আচারন করেন। নিয়ম অনুসারে আমরা সবাই কর্মচারী, রাষ্ট্রের সেবা দিতে বাধ্য। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাসিক মিটিং, জেলা উন্নয়ন সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী ও বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আলোচনা করেছে। কোন লাভ হয়নি, তিনি কারো কোন কথার তোয়াক্কা না করে পথটি এখনো বন্ধ করে রেখেছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও লিখিত অভিযোগ করেছি, ওনার সাথে সবার কথা হয়েছে, সকাল থেকে ৫টা পর্যন্ত গেইটি খুলে রাখার কথা বলেছে, ওনার কাছে চাবি চাইলে তিনি মুসলেকা দিয়ে চাবি নিতে বলেন। কিন্তু আমি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার হিসেবে মুছলেকা দিয়ে চাবি নিতে পারিনা। পথটি বন্ধ থাকার কারনে অফিসের যাতায়ের এখন সহজ পথ রেখে ভিন্ন পথ দিয়ে আসতে হচ্ছে। আমিও সরকারি কর্মচারী।

তিনি জানান, সম্প্রতি সদরের ৯৬টি স্কুলের জন্য সরকার ল্যাফটপ দিয়েছে। সে ল্যাফটপ নিতে আসলে ওই গেইটের জন্য গাড়ি না আসায় লেভার দিয়ে রাস্তা থেকে অফিসে নেওয়া হয়েছে। এজন্য আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন এটা নিয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হবে। আপনাদের কাছে গেল কিভাবে। ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য এটা করা হয়েছে। বিয়ষটি নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ও কথা হয়েছে। এটা সীমানা নির্ধারন করেই দেওয়া হয়েছে। দুইটাই সরকারি প্রতিষ্ঠান, গেইট বন্ধ করা ঠিক হয়েছি কিনা জানতে চাইলে তিনি মন্ত্রী আসবে বলে বিষয়টি নিয়ে পরে কথা হবে বলে লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কোন কথা হয়নি। আমরা তাকে কেন পথটি বন্ধ করে রেখেছে জানতে চাইছি। তিনি ওই দিন আমাদের বিভিন্ন কারন দেখিয়ে যোগাযোগ করেনি। পথটি খুলে দেওয়ার জন্য সদর ইউএনওসহ আমি বলেছি। কোন লাভ হয়নি। পথটি বন্ধ থাকার জন্য শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, শিক্ষকরা নিয়মিত অফিসে যাতায়েত করতে পারছেনা।

এ ছাড়া ও মূল ফটকের গেইটও অনেক সময় তিনি বন্ধ রাখেন। এজন্য মুসল্লীরা নামাজে আসতে কষ্ট হয়। চলাচলের পথ বন্ধ করে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পথটি ২৪ ঘন্টাই বন্ধ রাখেন, এটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন। সে এখানে এসেই একের পর এক প্রশ্নবোধক কাজ করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কথা হয়নি। আমি এবং আমার উপজেলা চেয়ারম্যান গেইটটি খুলে দেওয়ার জন্য বলেছি। একদিন খুলে রাখার পর আবার সে আটকে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের চরদিকেই খোলা, এ গেইট আটকে কিভাবে তিনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে জানিনা।

গেইটটি সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খুলে দেওয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।