শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা গরীব মানুষ নিয়ে ভাবেন : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩, ২:১৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা গরীব মানুষ নিয়ে ভাবেন : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় আর্থিক অনুদানের প্রধানমন্ত্রীর উপহার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

২৩মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকারের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বক্তব্যে বলেন, মুমুর্ষ রোগীদের এ সহায়তা প্রয়োজন। ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধি সনাক্ত করার জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। আপনারা দালালের মাধ্যমে টেস্ট বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে সরাসরি নিজের চিকিৎসা করাবেন। আপনার রোগের টেস্ট এবং চিকিৎসার জন্য চলে যাবেন সরকারি যে কোন হাসপাতালে। গরীব ও অসহায় মানুষের জন্যই সরকারি হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার গণই প্রাইভেটে রোগী দেখে।

যারা প্রাইভেটে রোগী দেখে, তারাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অনেক রোগী ভর্তি হয়, কিন্তু আবর্জনা নিদিষ্ট স্থানে ফেলা হয়নি, তাই নোংরা হয় বেশি। রোগের ধরন অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে বেস্ট। আমাদের হাসপাতালগুলো নোংরা হওয়ার কারন হচ্ছে, রোগীর সাথে মানুষ বেশি আসে, তারাই নোংরা করে। এ হাসপাতালের ক্যাপাসিটি ২শ৫০ জন কিন্তু রোগীর সাথে আসে আরো বেশি ।আপনারা সঠিক জায়গায় গিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিবেন, এতে অর্থের অপচয় কমবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা গরীব মানুষ নিয়ে ভাবেন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই অসহায় গরীব মানুষের চিকিৎসা সহায়তার জন্য উপহার দেওয়ায়। এ প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে। চাঁদপুরে আজকে পর্যন্ত ২শ ৮০জনকে দেওয়া হয়েছে এ চিকিৎসা সহায়তা। আরো ২শ ৮০জনকে দেওয়া হবে চিকিৎসা সহায়তা। সরকার একটি খাতে ১বৎসরে হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে, শুধু দরিদ্র মানুষের সহায়তার জন্য। কারো আত্মীয় স্বজন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রয়েছে, তাদের বলবেন সঠিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করতে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহেল রুশদী তার বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসার জন্য যে সহায়তা দিচ্ছে এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভালো উদ্যোগ। চাঁদপুর সমাজ সেবা কার্যালয় স্বচ্ছতার মাধ্যমে এ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের এ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চাঁদপুর সমাজসেবার ডিডি মহোদয় খুবই আন্তরিকতার সাথে তালিকা করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ডিডি মহোদয় উপহার ভোগীদের তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকা দিয়ে দেন। সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় সচিব ও চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:জাহাঙ্গীর আলম মহোদয় চাঁদপুরের চিকিসায় অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মিয়া ফিরোজ আহম্মদ খান।

তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর যে টাকা দিচ্ছে, এটা দিয়ে আপনাদের রোগের কিছুদিন চিকিৎসা করতে পারবেন। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আপনাদের দেওয়া হচ্ছে। আমি মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা জানাই, আমাদের অনুষ্ঠান গুলো সম্মতি দেওয়ায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: জামাল উদ্দিন, চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: মো: জাহিদুজ্জামান, পুলিশ কন্ট্রোলরুম ইনচার্জ মো: সফিকুল ইসলাম, চাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ফরিদা ইলিয়াছ, ইউনিয়ন সমাজকর্মী মো: ইলায়াছ গাজী, অফিস সহকারি মোস্তফা কামাল।

অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় ১শ ৪১জন রোগীকে মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র উপহার হিসেবে ৫০হাজার টাকা করে মোট ৭০লক্ষ ৫০হাজার টাকা অনুদানের চেক বিতরণ করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, বিশেষ অতিথি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অন্যান্যরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’