রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ৬ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩, ৬:১১ পিএম
মতলব উত্তরে ৬ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস বলেছেন, কোনো জমি জেনো অনাবাদি না থাকে সে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকরা জমিতে আবাদি করতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সোনার মাটি ও সোনার মাটি আমাদের সম্পদ। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ৬ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খরিপ-১ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস এ কথা বলেন।

কুদ্দুস বলেন, বিএনপি জোট সরকারের সময় ১৮ জন কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। এখন কৃষকের কাছে সার। কৃষককে নেতাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হয় না। বর্তমান সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিয়েছেন। বিগত সরকারের সময় বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল করতে হয়েছে। সিংড়া উপজেলার মাত্র ৪০ ভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল। এখন মতলব উত্তরে শতভাগ পরিবার বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত।

কৃষিতে সরকার ভর্তুকির ব্যবস্থা করেছেন। সারাদেশের ১ কোটি কৃষককে ব্যাংক একাউন্ট করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কৃষকদের মুখ হাসি ফুটিয়েছেন। বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়ং সস্পূর্ণ। বিদেশে খাদ্য সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ সহায়তা করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল ভিলেজ প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে।

Model Hospital

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কুদ্দুস আরও বলেন, ১৪ বছরের উন্নয়ন, সুশাসনের বিচার জনগণের বিবেকের আদালতে ছেড়ে দিলাম। মেঘনা-ধনাগোদা সেচব প্রকল্পের উন্নয়নে ৩শ’ ৪৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়ন হলে কৃষক ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

কৃষি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিত্য নতুন আইডিয়া সরকার গ্রহণ করছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে পুনরায় বিজয়ী করে সরকারের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান এমএ কুদ্দুস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান। উপজেলার ৬ হাজার জন কৃষকের মাঝে ১০ কেজি করে এমওপি সার, ১০ কেজি করে ডিএপি সার এ উফশী আউশ বীজ ৫ কেজি করে প্রদান করা হয়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।