বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে মসজিদ কমিটির খামখেয়ালীপনায় হরহামেশাই ঘটছে দূর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৭ মে, ২০২৩, ৬:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে মসজিদ কমিটির খামখেয়ালীপনায় হরহামেশাই ঘটছে দূর্ঘটনা
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলাধীন সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের লোটরা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঘাটলা এক অভিশপ্ত অজুর জায়গা। ঘাটলাটি নির্মাণের সময় থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ ঘাটলার শেষে নিচে নেমে যখনি সিড়ি আছে মনে করে “পা” দেয় সাথে সাথেই পানিতে পড়ে হাবুডুবু খেয়ে মোবাইল সহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে ভিজে যায়।
অনেক মুসাফির ও অপরিচিত ব্যক্তি নামাজের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করে অজুর জন্য গেলেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে তাদের সাথে। বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করে থাকেন মসজিদ কমিটির বর্তমান সদস্যরা।
প্রতিদিন ২/৩ জন করে এ ঘাটলায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শনিবার বিকেলে আসরের নামাজ পড়তে মসজিদের প্রবেশ মুহূর্তে এক রিক্সা চালক না জেনে ঘাটলার শেষ ধাপে নামতে গিয়েই পড়েন বিপাকে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে পুকুরের পানিতে ভিজে নামাজও পড়তে পারে নি। এভাবে প্রতিদিন কেউ না কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছেন।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী ও বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ৩ বছর পূর্বে সরকারী অনুদানের প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে ঘাটলাটি নির্মাণ করেন তৎকালীন চেয়্যারম্যান সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ। তবে ঘাটলাটি আদৌ ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। ঘাটলাটির নির্মাণের সময় সিড়ির ধাপগুলো নিচের দিকে আর নামায় নি। তার জন্য পুকুরে পানি থাকা অবস্থায় অনেক মুসল্লি অজু করতে নামলে সিঁড়ির ধাপ শেষ হলেও বুঝতে না পারার দরুন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়।
লোটরা বাজার জামে মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, আমরা কমিটির পক্ষ থেকে সিঁড়ির শেষ ধাপে লাল কাপড় বেঁধে দিলেও অনেক অপরিচিত মুসল্লী বিষয়টি বুঝতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়। সত্যিই বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা শীঘ্রই ঘাটলার পাশে অজুখানা নির্মাণ করবো। তাতে সৃষ্ট সমস্যা কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।