শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই ভুট্টাচাষীদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ মে, ২০২৩, ৭:৪৮ পিএম
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই ভুট্টাচাষীদের

এ বছর মতলব উত্তরে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড বা উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার ব্যাপকভাবে আবাদ করা হচ্ছে। অল্প খরচে অধিক মুনাফা এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা আবাদে ঝুঁকেছেন কৃষক। তবে এবার ভালো দাম না পাওয়ায় চাষির মুখ হাসি নেই।

উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নেই ভুট্টার আবাদ হয়েছে। বর্তমানে কৃষক ভুট্টা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে এখলাছপুর, ফরাজীকান্দি, সুলতানাবাদ, দূর্গাপুর, জহিরাবাদ’সহ এলাকায় ব্যাপক ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাছে ঝুলছে হলুদ রঙের ভুট্টার মোচা। ইতোমধ্যে চলছে মোচা কেটে নেওয়ার কাজ। কৃষক মাঠ থেকে ভুট্টা কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ বা সেগুলো মাড়াইয়ের কাজ করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছর ধরে ধান-আলু আবাদ বন্ধ রেখে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এর আবাদ। এবার এ উপজেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমি হলেও শেষ পর্যন্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৮২ হেক্টরে। আর উৎপাদন লক্ষ্য ২০ হাজার ৫০০ টন। সরকার ভুট্টা আবাদে আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। রোগবালাই এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টার আবাদ।

Model Hospital

উপজেলার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ১০০ শতক জায়গায় ধানের পরিবর্তে প্রথম ভুট্টা আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হলেও এবার দাম অনেক কম। পাইকাররা ৮০০ টাকা মণ দাম করেছে। কম দাম হওয়ায় ভুট্টা বাড়িতেই রেখে দিয়েছেন। পরে দাম বাড়লে বিক্রি করবো।

ইউনিয়নের চরজহিরাবাদ গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম জানান, তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৩৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৬৫ মণের ওপরে ভুট্টা তুলেছেন। রোদে শুকানোর পর মণ প্রতি ৯০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করেছেন। অথচ গত বছর বিক্রি করেছিলেন এক হাজার ২৫০ টাকা মণ দরে।

সহকারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষাবাদ বেড়েছে। কৃষকদের মধ্যে সরকারিভাবে উন্নতমানের ভুট্টার বীজ ও সার বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। এ মৌসুমে ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬৮২ হেক্টর জমিতে।

তিনি জানান, এ অঞ্চলে যুবরাজ, এন এইচ, এন কে ৭৮৮৪, পাইওনিয়ার, প্যাসিফিক, সানসাইন, মিরাকেল, জাতের ভুট্টা বেশি চাষ হয়েছে।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।