ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে ব্র্যাকের আয়োজনে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মশালা

শাহরাস্তিতে ব্র্যাকের এরিয়া অফিসের আয়োজনে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির  অংশ হিসেবে এক  সচেতনতামুলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে পৌরশহরের ৯ নং ওয়ার্ডের ছিকুটিয়া মহল্লার রিভারভিউ কফিপার্কে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শাহরাস্তি ব্র্যাকের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার মো. আমজাদ হোসেন পলকের সভাপ্রদানে এতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: মো. ফারুক হোসেন।
তিনি বক্তব্য বলেন,দেশে এখনো বড় এক স্বাস্থ্য সমস্যা যক্ষ্মা। এ রোগে শুধু যে নিম্ন আয়ের মানুষেরাই আক্রান্ত হচ্ছে, তা কিন্তু নয়, যে কারোরই হতে পারে যক্ষ্মা। বিশ্বে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যান ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ। বিশ্বে যক্ষ্মায় আক্রান্ত মোট রোগীর দুই-তৃতীয়াংশ যে আটটি দেশে আছে, তারই একটি বাংলাদেশ। আবার যক্ষ্মা যে শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হয়, তা–ও কিন্তু নয়, সবার মধ্যেই আছে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। বিশেষত শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ে।
রোগ কিংবা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসেও আক্রমণ করতে পারে যক্ষ্মার জীবাণু।
ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, অপুষ্টি, মদ্যপান, মাদক সেবন, ধূমপান—এসব যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ায়। গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি, কেমোথেরাপি কিংবা দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণ করছেন—এমন ব্যক্তি ও এইচআইভি আক্রান্ত মানুষেরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। ঝুঁকির তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে করোনা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে অনেকেরই যক্ষ্মার ঝুঁকি বেড়েছে।
এছাড়া তিনি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত প্রসঙ্গ বিশদ ব্যাখ্যা দেন। এদিকে দেশে প্রতিবছর প্রায় এক লক্ষ ৪০ হাজার জন ব্যক্তি যক্ষা আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ হাজার লোক মারা যায়।
এ কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার আমজাদ হোসেন পলক তার বক্তব্য বলেন, অত্র উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৫শ’ জন  যক্ষায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়েছে।
এ জনপদে পহেলা জানুয়ারি ২০২৩ সালের আজ অবধি ৩০৩ জন যক্ষা আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই কার্যক্রম সম্পাদনে ৪ জন অফিসিয়াল স্টাফ ও ১৪০ জন সেবিকা ও মাঠকর্মি  সেবা প্রদান করছেন ।
এছাড়া উক্ত কর্মশালায় পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র রাবেয়া বেগম, শাহরাস্তি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. মাসুদ রানা, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক  নোমান হোসেন আখন্দ, পৌরসভার নারী কাউন্সিলর রাবেয়া বসরি বকুল, এ কার্যক্রমের অর্গানাইজার আলমগীর হোসেন, জুয়েল মিয়া, পল্লী চিকিৎসক গৌতম চন্দ্র পাল, মেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সমুন রানা, ইউপি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কবিতাসহ জন জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, পল্লী চিকিৎসক,  মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক ও সমাজের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরাস্তিতে ব্র্যাকের আয়োজনে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মশালা

আপডেট সময় : ১১:০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩
শাহরাস্তিতে ব্র্যাকের এরিয়া অফিসের আয়োজনে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির  অংশ হিসেবে এক  সচেতনতামুলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে পৌরশহরের ৯ নং ওয়ার্ডের ছিকুটিয়া মহল্লার রিভারভিউ কফিপার্কে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শাহরাস্তি ব্র্যাকের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার মো. আমজাদ হোসেন পলকের সভাপ্রদানে এতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: মো. ফারুক হোসেন।
তিনি বক্তব্য বলেন,দেশে এখনো বড় এক স্বাস্থ্য সমস্যা যক্ষ্মা। এ রোগে শুধু যে নিম্ন আয়ের মানুষেরাই আক্রান্ত হচ্ছে, তা কিন্তু নয়, যে কারোরই হতে পারে যক্ষ্মা। বিশ্বে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যান ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ। বিশ্বে যক্ষ্মায় আক্রান্ত মোট রোগীর দুই-তৃতীয়াংশ যে আটটি দেশে আছে, তারই একটি বাংলাদেশ। আবার যক্ষ্মা যে শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হয়, তা–ও কিন্তু নয়, সবার মধ্যেই আছে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। বিশেষত শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ে।
রোগ কিংবা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসেও আক্রমণ করতে পারে যক্ষ্মার জীবাণু।
ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, অপুষ্টি, মদ্যপান, মাদক সেবন, ধূমপান—এসব যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ায়। গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি, কেমোথেরাপি কিংবা দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণ করছেন—এমন ব্যক্তি ও এইচআইভি আক্রান্ত মানুষেরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। ঝুঁকির তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে করোনা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে অনেকেরই যক্ষ্মার ঝুঁকি বেড়েছে।
এছাড়া তিনি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত প্রসঙ্গ বিশদ ব্যাখ্যা দেন। এদিকে দেশে প্রতিবছর প্রায় এক লক্ষ ৪০ হাজার জন ব্যক্তি যক্ষা আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ হাজার লোক মারা যায়।
এ কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার আমজাদ হোসেন পলক তার বক্তব্য বলেন, অত্র উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৫শ’ জন  যক্ষায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়েছে।
এ জনপদে পহেলা জানুয়ারি ২০২৩ সালের আজ অবধি ৩০৩ জন যক্ষা আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই কার্যক্রম সম্পাদনে ৪ জন অফিসিয়াল স্টাফ ও ১৪০ জন সেবিকা ও মাঠকর্মি  সেবা প্রদান করছেন ।
এছাড়া উক্ত কর্মশালায় পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র রাবেয়া বেগম, শাহরাস্তি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. মাসুদ রানা, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক  নোমান হোসেন আখন্দ, পৌরসভার নারী কাউন্সিলর রাবেয়া বসরি বকুল, এ কার্যক্রমের অর্গানাইজার আলমগীর হোসেন, জুয়েল মিয়া, পল্লী চিকিৎসক গৌতম চন্দ্র পাল, মেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সমুন রানা, ইউপি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কবিতাসহ জন জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, পল্লী চিকিৎসক,  মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক ও সমাজের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।