ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে কালোবাজারিদের হাতে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট

চাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি করে আসছে। এ নিয়ে সাধারন যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যাত্রীরা
অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত মূল্যের ৮৫ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। বেসরকারি কোম্পানি মেসার্স এন এল ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনায় চাঁদপুর-চট্টগ্রামের চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ এই ট্রেনের বহু  যাত্রীর। কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ না করায় দিন দিন চক্রটির দৌরাত্ম্য আরও বাড়ছে। যাত্রীরা এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কোনো ধরনের অভিযোগ কিংবা সমাধান না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে বাদ্য হচ্ছে। যার ফলে এই ট্রেনের চাঁদপুরের যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার সরজমিনে ট্রেন স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কাউন্টারের পাশেই দাড়িয়ে জনৈক ব্যাক্তি উচ্চ মূল্যে টিকেট বিক্রি করছে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌরে পালিয়ে যায়।চাঁদপুরে স্টেশনে অবস্থানরত চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের সাথে আলাপকালে  তারা বলেন,  আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর স্টেশনে দুপুর ১টার পূর্বে উপস্থিত হই। সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারি সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ আমি টিকিটের জন্য লাইনে থাকা অবস্থায় কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে গেছেন। পরে কাউন্টার থেকে বলা হয় স্ট্যান্ডিং টিকিট নেয়ার জন্য।
আমাকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আমার মতো একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন আরও বহুযাত্রী। সাগরিকা এক্সপ্রেসের বড় স্টেশনের টিকিট বিক্রেতা  জানান, বিভিন্ন নেতা পরিচয়ে কিছু লোক এসে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টিকিট ক্রয় করে নিয়ে যায়।
খোজনিয়ে জানাযায়, বড়স্টেশন এলাকার কিছু লোকজন সরকার দলীয় নেতা পরিচয় দিয়ে প্রায় সময়েই টিকেট কাউনরটারের লোকদের সাথে আতাত করে বেশ কিছু টিকেট তারা আগে ভাগেই নিয়ে থাকে।
পরবর্তিতে উক্ত টিকেট গুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে থাকে।
 টিকিটের মূল্যের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে সকাল  সাড়ে ৭ টায় এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় দুপুর আড়াইটায়। চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম টিকিটের নির্ধারিত মূল্য ৮৫ টাকা। একই টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। চাঁদপুর থেকে লাকসাম নির্ধারিত টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। কালোবাজারে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৭০টাকা। কালোবাজির মাধ্যমে টিকিটের অতিরিক্ত নেয়া মূল্য টিকিট বিক্রেতা, ইনচার্জ ও চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছে।
চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার সোয়াইবুল শিকদার বলেন, যেহেতু এই ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। যাত্রীদের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা এর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। তাদের কোম্পানির চট্টগ্রামের দায়িত্বরত ম্যানেজারই ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমাদের কাছে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ প্রায় সময়ই আসে, বড়স্টেশন এলাকার কয়েকজন নেতা অধিকাংশ সময়ই অধিক টিকেট নিয়ে যায়।
এতে আমাদের করার নিছুই থাকে না,কারন যেহেতু ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। তাই সকল দায়িত্বই তাদের বলে তিনি তার নিজ তায়িত্ব এরিয়ে যান।
ট্যাগস :

চাঁদপুরে কালোবাজারিদের হাতে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩
চাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি করে আসছে। এ নিয়ে সাধারন যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যাত্রীরা
অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত মূল্যের ৮৫ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। বেসরকারি কোম্পানি মেসার্স এন এল ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনায় চাঁদপুর-চট্টগ্রামের চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ এই ট্রেনের বহু  যাত্রীর। কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ না করায় দিন দিন চক্রটির দৌরাত্ম্য আরও বাড়ছে। যাত্রীরা এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কোনো ধরনের অভিযোগ কিংবা সমাধান না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে বাদ্য হচ্ছে। যার ফলে এই ট্রেনের চাঁদপুরের যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার সরজমিনে ট্রেন স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কাউন্টারের পাশেই দাড়িয়ে জনৈক ব্যাক্তি উচ্চ মূল্যে টিকেট বিক্রি করছে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌরে পালিয়ে যায়।চাঁদপুরে স্টেশনে অবস্থানরত চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের সাথে আলাপকালে  তারা বলেন,  আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর স্টেশনে দুপুর ১টার পূর্বে উপস্থিত হই। সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারি সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ আমি টিকিটের জন্য লাইনে থাকা অবস্থায় কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে গেছেন। পরে কাউন্টার থেকে বলা হয় স্ট্যান্ডিং টিকিট নেয়ার জন্য।
আমাকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আমার মতো একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন আরও বহুযাত্রী। সাগরিকা এক্সপ্রেসের বড় স্টেশনের টিকিট বিক্রেতা  জানান, বিভিন্ন নেতা পরিচয়ে কিছু লোক এসে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টিকিট ক্রয় করে নিয়ে যায়।
খোজনিয়ে জানাযায়, বড়স্টেশন এলাকার কিছু লোকজন সরকার দলীয় নেতা পরিচয় দিয়ে প্রায় সময়েই টিকেট কাউনরটারের লোকদের সাথে আতাত করে বেশ কিছু টিকেট তারা আগে ভাগেই নিয়ে থাকে।
পরবর্তিতে উক্ত টিকেট গুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে থাকে।
 টিকিটের মূল্যের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে সকাল  সাড়ে ৭ টায় এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় দুপুর আড়াইটায়। চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম টিকিটের নির্ধারিত মূল্য ৮৫ টাকা। একই টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। চাঁদপুর থেকে লাকসাম নির্ধারিত টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। কালোবাজারে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৭০টাকা। কালোবাজির মাধ্যমে টিকিটের অতিরিক্ত নেয়া মূল্য টিকিট বিক্রেতা, ইনচার্জ ও চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছে।
চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার সোয়াইবুল শিকদার বলেন, যেহেতু এই ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। যাত্রীদের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা এর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। তাদের কোম্পানির চট্টগ্রামের দায়িত্বরত ম্যানেজারই ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমাদের কাছে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ প্রায় সময়ই আসে, বড়স্টেশন এলাকার কয়েকজন নেতা অধিকাংশ সময়ই অধিক টিকেট নিয়ে যায়।
এতে আমাদের করার নিছুই থাকে না,কারন যেহেতু ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। তাই সকল দায়িত্বই তাদের বলে তিনি তার নিজ তায়িত্ব এরিয়ে যান।