ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শাহরাস্তি থানা পুলিশের প্রেস কনফারেন্স

চাঞ্চল্যকর শাহরাস্তি রিনা হত্যায় ঘাতক স্বামী হাবিবুর আটক  

শাহরাস্তিতে চঞ্চল্যকর স্ত্রী রিনা আক্তার (২৫) হত্যার প্রধান ঘাতক আসামী  হাবিবুর রহমানকে (৪৮) আটক করছে পুলিশ।
ওই হত্যাকাণ্ডের ৭২ ও মামলার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার  টামটা উত্তর ইউপির হোসেনপুর এলাকায় পরানপুর গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় ও এ এস পি (কচুঁয়া) সার্কেল রিজওয়ান সাঈদ জিকুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে  শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বের সংশ্লিষ্ট অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এতে নিহত রিনার পরিবার পরিজন স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টিতে স্বস্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সোমবার ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাহরাস্তি গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে প্রেস ব্রিফিং কালে এ এস পি (কচুয়া) সার্কেল রিজওয়ান সাঈদ জিকু জানান, রোববার চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের একদিন পর শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ আলোচিত রিনা হত্যা কান্ডের ৭২ ঘন্টা ও মামলার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি ঘাতক হাবিবুর রহমান কে উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির পরানপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হাবিবুর রহমান হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
এছাড়া ওই মামলা অভিযুক্ত চার আসামিকে ধরার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত  মো: খায়রুল আলম ।
উল্লেখ্য, গত ১৭ই নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টায় উপজেলা টামটা উত্তর ইউপি সুরসই কাজী বাড়ীতে স্বামী হাবিবুর রহমান নির্মম ভাবে কুপিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী রিনা আক্তারকে  জখম করে, অবশেষে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, ওই বাড়ীর হাবিবুর রহমান দুই মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী টামটা দক্ষিণ ইউপির কাজী বাড়ীর বিল্লাল হোসেনের কন্যা রিনা আক্তারকে বিয়ে করেন।
কিছুদিন যেতেই স্ত্রী রিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকের  টিক টকে আসত্য হয়ে পড়ে। ওই কান্ডে স্ত্রীর রিনার সঙ্গে হাবিবুর রহমান বিবাদে জড়িয়ে পারিবারিক কলহ বিকট আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে প্রথম স্ত্রীর দেওয়া মামলায় হাবিবুর রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জেলে চলে যান। ওই সুযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী রিনা আক্তার গত ১৭ই অক্টোবর কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে এক মাস থেকে  গত ১৭ই নভেম্বর  শুক্রবার দুপুর ২ টায় স্বামীর বাড়ি সুরসই কাজী বাড়ীতে ফিরে আসেন তিনি ।
ওই সময়ের মধ্যে জেল থেকে ফিরে এসে স্বামী হাবিবুর রহমান স্ত্রী রিনা আক্তারের অনুপস্থিতির বিষয় নিয়ে চরম বাক্ বিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন। স্বামী হাবিবুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী রিনাকে ছুরি নিয়ে তেড়ে এলে সে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী প্রবাসী দেবর রেদোয়ানের ঘরে তিনি আশ্রয় নেন।সেখানে গিয়ে হাবিবুর রহমান আবারো বিবাদে জড়িয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রিনাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসি রেদোয়ানের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩০) জানায়, বিয়ের পর থেকেই পরকিয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় বিবাদ লেগে থাকতো। ১ মাস পর রিনার বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিয়ে বিবাদে বাসুর হাবিবুর রহমানের হাতের  চুরির এলোপাতাড়ি কোপানিতে ঘটনাস্থলেই রিনা মারা যায়।
এ ব্যাপারে নিহত রিনার বাবা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় গত ১৮ ই নভেম্বর ৫ জনকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং ০৬, তাং ১৮/ ১১/২০২৩ ইং।
এছাড়া পুলিশ আরো জানায় , হাবিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রিনা আক্তারের ব্যবহত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এবং হত্যার কাজে ব্যবহার করা ছুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরাস্তির কৃতি সন্তান মাসুদ আলম যশোরের নতুন এসপি 

শাহরাস্তি থানা পুলিশের প্রেস কনফারেন্স

চাঞ্চল্যকর শাহরাস্তি রিনা হত্যায় ঘাতক স্বামী হাবিবুর আটক  

আপডেট সময় : ১০:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩
শাহরাস্তিতে চঞ্চল্যকর স্ত্রী রিনা আক্তার (২৫) হত্যার প্রধান ঘাতক আসামী  হাবিবুর রহমানকে (৪৮) আটক করছে পুলিশ।
ওই হত্যাকাণ্ডের ৭২ ও মামলার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার  টামটা উত্তর ইউপির হোসেনপুর এলাকায় পরানপুর গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় ও এ এস পি (কচুঁয়া) সার্কেল রিজওয়ান সাঈদ জিকুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে  শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বের সংশ্লিষ্ট অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এতে নিহত রিনার পরিবার পরিজন স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টিতে স্বস্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সোমবার ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাহরাস্তি গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে প্রেস ব্রিফিং কালে এ এস পি (কচুয়া) সার্কেল রিজওয়ান সাঈদ জিকু জানান, রোববার চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের একদিন পর শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ আলোচিত রিনা হত্যা কান্ডের ৭২ ঘন্টা ও মামলার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি ঘাতক হাবিবুর রহমান কে উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির পরানপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হাবিবুর রহমান হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
এছাড়া ওই মামলা অভিযুক্ত চার আসামিকে ধরার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত  মো: খায়রুল আলম ।
উল্লেখ্য, গত ১৭ই নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টায় উপজেলা টামটা উত্তর ইউপি সুরসই কাজী বাড়ীতে স্বামী হাবিবুর রহমান নির্মম ভাবে কুপিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী রিনা আক্তারকে  জখম করে, অবশেষে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, ওই বাড়ীর হাবিবুর রহমান দুই মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী টামটা দক্ষিণ ইউপির কাজী বাড়ীর বিল্লাল হোসেনের কন্যা রিনা আক্তারকে বিয়ে করেন।
কিছুদিন যেতেই স্ত্রী রিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকের  টিক টকে আসত্য হয়ে পড়ে। ওই কান্ডে স্ত্রীর রিনার সঙ্গে হাবিবুর রহমান বিবাদে জড়িয়ে পারিবারিক কলহ বিকট আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে প্রথম স্ত্রীর দেওয়া মামলায় হাবিবুর রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জেলে চলে যান। ওই সুযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী রিনা আক্তার গত ১৭ই অক্টোবর কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে এক মাস থেকে  গত ১৭ই নভেম্বর  শুক্রবার দুপুর ২ টায় স্বামীর বাড়ি সুরসই কাজী বাড়ীতে ফিরে আসেন তিনি ।
ওই সময়ের মধ্যে জেল থেকে ফিরে এসে স্বামী হাবিবুর রহমান স্ত্রী রিনা আক্তারের অনুপস্থিতির বিষয় নিয়ে চরম বাক্ বিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন। স্বামী হাবিবুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী রিনাকে ছুরি নিয়ে তেড়ে এলে সে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী প্রবাসী দেবর রেদোয়ানের ঘরে তিনি আশ্রয় নেন।সেখানে গিয়ে হাবিবুর রহমান আবারো বিবাদে জড়িয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রিনাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসি রেদোয়ানের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩০) জানায়, বিয়ের পর থেকেই পরকিয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় বিবাদ লেগে থাকতো। ১ মাস পর রিনার বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিয়ে বিবাদে বাসুর হাবিবুর রহমানের হাতের  চুরির এলোপাতাড়ি কোপানিতে ঘটনাস্থলেই রিনা মারা যায়।
এ ব্যাপারে নিহত রিনার বাবা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় গত ১৮ ই নভেম্বর ৫ জনকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং ০৬, তাং ১৮/ ১১/২০২৩ ইং।
এছাড়া পুলিশ আরো জানায় , হাবিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রিনা আক্তারের ব্যবহত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এবং হত্যার কাজে ব্যবহার করা ছুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।