ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কক্ষে রহস্যজনক চুরির ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি

  • মাসুদ হোসেন
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
  • 504
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোছাইনপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে টেবিলের ড্রয়ার থেকে রহস্যজনকভাবে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে চুরির ঘটনায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ শিক্ষক ও এলাকাবাসীর। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম সহ পুলিশ ও বিজিব সদস্যরা।
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা অক্ষত। কিন্তু ওই কক্ষের পেছনের জানালার গ্লাস ভাঙা এবং গ্রিল কাটা। মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে ৫ লক্ষ টাকার একটি সরকারি অনুদান আসে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কাজে ব্যায় করা হবে। বাকী এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হবে। আর ৭৫ হাজার টাকা তালিকাভুক্ত কিছু অসহায় শিক্ষার্থীদের দেয়ার কথা।
গত ১৭ ডিসেম্বর একটি পোগ্রাম শেষে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এর আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজের ড্রয়ারে রেখে যান।
পরে গত বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৮টার পরে কে বা কাহারা অধ্যক্ষের কক্ষে ডুকে ড্রয়ারের তালা কেটে টাকাগুলো নিয়ে যায়। সেই সাথে সিসিটিভির মনিটরের মাঝখান এবং ডিজিটাল দেয়াল ঘড়ি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। পরদিন মাদ্রাসার এক কর্মচারী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বিষয়টি বুঝতে পেরে সকলকে অবগত করেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চুরির ঘটনার দৃশ্য দেখে তিনি বিষয়টি মাদরাসা কমিটির সঙ্গে বসে সমাধান করার পরামর্শ দেন। চুরি হওয়া কক্ষের দরজার চাবি ৩টি। একটি অধ্যক্ষের কাছে থাকে, একটি পিয়ন নাজির এবং অপর চাবিটি থাকে কম্পিউটার অপারেটর বশির উদ্দিনের কাছে।
চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর ধারনা ঘটনাটি কক্ষের ভেতর থেকে ঘটিয়ে চুরির নাটক সাজিয়েছে। কারণ, ভাঙা গ্লাস বেইরে গিয়ে পড়েছে। পুলিশি তদন্ত চলার সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম।
উপস্থিত সকলের মনে হয়েছে চোর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কেউ। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসা যখন টিনের ছিল, তখন তো কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এখন এ প্রতিষ্ঠানটি চারতলা ভবন হওয়ার পর এমন ঘটনা কিভাবে ঘটলো। যে কারণে অধ্যক্ষকে বসে এটির সমাধান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন জানান, ঘটনার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার দিকে গ্লাস ভাঙার আওয়াজ শুনতে পাই। তবে কাউকে দেখা যায়নি। কারণ ওই সময় মাদরাসার সামনের খোলা জায়গায় স্থানীয় যুবকরা ব্যাডমিন্টন খেলছিল। তাদের কথাবার্তার শব্দ এবং আমার দোকানে রেকর্ডিং ওয়াজ চলছিল। যে কারণে গ্লাস ভাঙার শব্দ কাছের কেউ শুনতে পায়নি। খেলতে আসা যুবক রাকিব প্রধানীয়া বলেন, আমরা ৯টার পরে ১০-১২ জন খেলতে আসি। রাত সাড়ে ১০টায় চলে যাই। ওই সময় মাদরাসার ভেতরে ওই কক্ষে কম্পিউটার অপারেটর বশির উদ্দিনকে দেখেছি।
মাদরাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বলেন, অধ্যক্ষ আগে পরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমার কাছে রেখে গেলেও এই এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বিষয়ে আমাকে কিছুই বলে যাননি। চুরি হওয়ার পর তিনি বলছেন, ড্রয়ারে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রেখে গেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট (এসইডিপি) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা অনুদান আসে মাদরাসার নামে। এই টাকা নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ এবং অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৭৫ হাজার টাকা। চুরির ঘটনার পর অধ্যক্ষ বলছেন এই টাকাই চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। তার কাছে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে টাকা খাতওয়ারি ব্যয় করার কথা বললেও তিনি নানান কথা বলেন।
অধ্যক্ষ মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, মাদরাসা ১৮ ডিসেম্বর বন্ধের আগে ব্যাংক থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলাম। সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
 
বাকি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা টেবিলের ড্রয়ারে রেখে যাই। টাকা রাখার বিষয়টি কাউকে জানাইনি। মাদ্রাসার সভাপতির স্বাক্ষরের জন্য টাকাগুলো বণ্টন করেননি এবং প্রতিষ্ঠান খোলা হলে বিতরণ করতেন বলে জানান অধ্যক্ষ।
এদিকে রবিবার সকালে সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে মাদ্রাসার অফিস থেকে বের করে মাদ্রাসার মূল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় সঙ্গীয় ফোর্স ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এবং মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থান নেয়া এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম বলেন, আমরা ঘটনার সময়ের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সহ ৫জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর বিপক্ষে অভিযোগের বিষয়ে তিনি প্রকৃত আসামীকে খুঁজে বের করার আশ্বাস প্রদান করেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অটো চালকের মৃত্যু

চাঁদপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কক্ষে রহস্যজনক চুরির ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোছাইনপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে টেবিলের ড্রয়ার থেকে রহস্যজনকভাবে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে চুরির ঘটনায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ শিক্ষক ও এলাকাবাসীর। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম সহ পুলিশ ও বিজিব সদস্যরা।
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা অক্ষত। কিন্তু ওই কক্ষের পেছনের জানালার গ্লাস ভাঙা এবং গ্রিল কাটা। মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে ৫ লক্ষ টাকার একটি সরকারি অনুদান আসে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কাজে ব্যায় করা হবে। বাকী এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হবে। আর ৭৫ হাজার টাকা তালিকাভুক্ত কিছু অসহায় শিক্ষার্থীদের দেয়ার কথা।
গত ১৭ ডিসেম্বর একটি পোগ্রাম শেষে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এর আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজের ড্রয়ারে রেখে যান।
পরে গত বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৮টার পরে কে বা কাহারা অধ্যক্ষের কক্ষে ডুকে ড্রয়ারের তালা কেটে টাকাগুলো নিয়ে যায়। সেই সাথে সিসিটিভির মনিটরের মাঝখান এবং ডিজিটাল দেয়াল ঘড়ি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। পরদিন মাদ্রাসার এক কর্মচারী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বিষয়টি বুঝতে পেরে সকলকে অবগত করেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চুরির ঘটনার দৃশ্য দেখে তিনি বিষয়টি মাদরাসা কমিটির সঙ্গে বসে সমাধান করার পরামর্শ দেন। চুরি হওয়া কক্ষের দরজার চাবি ৩টি। একটি অধ্যক্ষের কাছে থাকে, একটি পিয়ন নাজির এবং অপর চাবিটি থাকে কম্পিউটার অপারেটর বশির উদ্দিনের কাছে।
চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর ধারনা ঘটনাটি কক্ষের ভেতর থেকে ঘটিয়ে চুরির নাটক সাজিয়েছে। কারণ, ভাঙা গ্লাস বেইরে গিয়ে পড়েছে। পুলিশি তদন্ত চলার সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম।
উপস্থিত সকলের মনে হয়েছে চোর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কেউ। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসা যখন টিনের ছিল, তখন তো কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এখন এ প্রতিষ্ঠানটি চারতলা ভবন হওয়ার পর এমন ঘটনা কিভাবে ঘটলো। যে কারণে অধ্যক্ষকে বসে এটির সমাধান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন জানান, ঘটনার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার দিকে গ্লাস ভাঙার আওয়াজ শুনতে পাই। তবে কাউকে দেখা যায়নি। কারণ ওই সময় মাদরাসার সামনের খোলা জায়গায় স্থানীয় যুবকরা ব্যাডমিন্টন খেলছিল। তাদের কথাবার্তার শব্দ এবং আমার দোকানে রেকর্ডিং ওয়াজ চলছিল। যে কারণে গ্লাস ভাঙার শব্দ কাছের কেউ শুনতে পায়নি। খেলতে আসা যুবক রাকিব প্রধানীয়া বলেন, আমরা ৯টার পরে ১০-১২ জন খেলতে আসি। রাত সাড়ে ১০টায় চলে যাই। ওই সময় মাদরাসার ভেতরে ওই কক্ষে কম্পিউটার অপারেটর বশির উদ্দিনকে দেখেছি।
মাদরাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বলেন, অধ্যক্ষ আগে পরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমার কাছে রেখে গেলেও এই এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বিষয়ে আমাকে কিছুই বলে যাননি। চুরি হওয়ার পর তিনি বলছেন, ড্রয়ারে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রেখে গেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট (এসইডিপি) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা অনুদান আসে মাদরাসার নামে। এই টাকা নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ এবং অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৭৫ হাজার টাকা। চুরির ঘটনার পর অধ্যক্ষ বলছেন এই টাকাই চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। তার কাছে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে টাকা খাতওয়ারি ব্যয় করার কথা বললেও তিনি নানান কথা বলেন।
অধ্যক্ষ মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, মাদরাসা ১৮ ডিসেম্বর বন্ধের আগে ব্যাংক থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলাম। সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
 
বাকি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা টেবিলের ড্রয়ারে রেখে যাই। টাকা রাখার বিষয়টি কাউকে জানাইনি। মাদ্রাসার সভাপতির স্বাক্ষরের জন্য টাকাগুলো বণ্টন করেননি এবং প্রতিষ্ঠান খোলা হলে বিতরণ করতেন বলে জানান অধ্যক্ষ।
এদিকে রবিবার সকালে সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে মাদ্রাসার অফিস থেকে বের করে মাদ্রাসার মূল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় সঙ্গীয় ফোর্স ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এবং মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থান নেয়া এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম বলেন, আমরা ঘটনার সময়ের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সহ ৫জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর বিপক্ষে অভিযোগের বিষয়ে তিনি প্রকৃত আসামীকে খুঁজে বের করার আশ্বাস প্রদান করেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে।