রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে ধানের চারা রোপন উদ্বোধনকালে

শেখ হাসিনার সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকি করণ করার কাজ শুরু করেছেন : তছলিম আহমেদ

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯:৪৭ পিএম
শেখ হাসিনার সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকি করণ করার কাজ শুরু করেছেন : তছলিম আহমেদ

ফরিদগঞ্জে হাইব্রিড সমলয় চাষাবাদের আওতায় ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ বা যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ঘড়িহানা গ্রামে কৃষি মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর স্থানীয় তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাঠে কৃষকদের নিয়ে আলোচনা সভা হয়।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো ধান (হাইব্রিড) সমলয়ে চাষাবাদের জন্য ট্রেতে উৎপাদিত বীজতলা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দ্বারা রোপণের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌলি মন্ডল’র সভাপতিত্বে এ কর্মসূচির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএস তছলিম আহমেদ। কৃষকদের উদ্দেশ্যে স্বগত বক্তব্যে রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার।

প্রধান অতিথি কার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। দেশে একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে, তেমনি আবার কমে আবাদী জমির পরিমাণ। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে জানি , মাঠে ফসল ফলাতে কৃষকদের কি পরিমানে কষ্ট করতে হয়। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকি করণ করার কাজ শুরু করেছেন। ফলে কৃষকদের একদিকে খরচ কমচে, আবার উৎপাদনও বাড়ছে। আপনারা জানেন, বর্তমানে আমাদের ধান ক্ষেতে কাজ করার শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর। তাই সরকার এই পদ্ধতি গ্রহণ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এসব যন্ত্রপাতি সংগহের জন্য সরকার ৫০ ভাঘ ভতুর্কি প্রদান করছে। আশাকরছি কৃষকরা এসব যন্ত্র ব্যবহার করে উপকৃত হবেন।

Model Hospital

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ফাহিম হাসানের পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহসীন হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তমর্তা মিল্টন দস্তিদার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগনেতা জসিম উদ্দিন মিন্টু পাটওয়ারী।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষকদের মধ্যে সমবায়ী মনোভাব গড়ে তোলা, স্বল্প সময়ে ধান রোপণ ও কর্তন করা, ফসল উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা, কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং শ্রমিক সাশ্রয় করে উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪ নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নে ৮৫ জন কৃষকের ৫০ একর জমিতে কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কার্যক্রমের আওতায় সমলয় ব্লকের কৃষকবৃন্দ নিজেরা হাতে কলমে প্লাস্টিক ট্রেতে সিনজেনটা এস-১২০৫ জাতের চারা উৎপাদন করেছেন।

উৎপাদিত চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ৫০ একর জমিতে রোপণ করা হবে। এই কার্যক্রমের আওতায় ৫০ একর জমিতে একই ধানের জাত ব্যবহারের ফলে একসাথে চারা উৎপাদন, রোপণ ও একই সময়ে ধান পরিপক্ব হবে বিধায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করে সহজে কর্তন করা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার করে ৫% জমিতে চারা রোপণ এবং ৫০% জমির ধান ও গম কর্তনে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষি কাজে ব্যবহৃত উপকরণ, সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয়। সেই সাথে ফসল আবাদের দক্ষতা, নিবিড়তা, উৎপাদনশীলতা ও শস্যের গুণগতমান বৃদ্ধি পায়, কৃষিকাজ লাভজনক ও কর্মসংস্থানমুখী হয়। এ ছাড়াও প্রতিকূল পরিবেশে যন্ত্রের ব্যবহার উৎপাদন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।