শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সাধারণ সভা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪, ১০:০৯ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সাধারণ সভা
শাহরাস্তিতে আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসির আরাফাতের সভাপ্রধানে সভার কার্য সম্পাদন হয়।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
যানজট নিরশনে ও জনগণের জান মাল রক্ষা সম্ভাব্য সব বাজারে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।
এছাড়া তিনি দুটি মিটিং এ উপস্থিতির বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, পৌর মেয়র হাজী আব্দুল লতিফ,শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  ওসি  মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ নাসির উদ্দিন, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ মোবারক হোসেন সরকার, ওসি এল,এসডি মোহাম্মদ শেখ মুজিবুর রহমান,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌসিব উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল শামীম, কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, উপজেলা সহকারি নির্বাচন অফিসার সুফিয়া সুলতানা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুদা বেগম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবু ইসহাক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, ফরেস্ট অফিসার মোঃ তাজুল ইসলাম, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুর রহমান ভূঁইয়া, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোমান হোসেন আকন্দ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা  অফিসের মোঃ আবুল হাশেম, আনসার ভিডিপি অফিসের পিন্টু দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মোঃ তাজুল ইসলাম, সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার, টামটা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন দর্জি, দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম মানিক, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন মুসু, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডাক্তার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মেহের দক্ষিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিন, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলম বেলাল  প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’