শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি’র সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি’র সভা অনুষ্ঠিত
চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি’র কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ এপ্রিল (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১টায় ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এর কার্যালয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডা: এ কে এম মাহবুবুর রহমান।
সভা পরিচালনা করেন চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নবাগত সমাজসেবা অফিসার ও রোগীকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম।
এসময় সভায় অংশ নেন ও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, চাঁদপুর রোগী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর বিএমএ’র সভাপতি চিকিৎসক ডা: সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সমিতির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত, সমিতির সদস্য ও চাঁদপুর চেম্বার অব কর্মাসের  সিনিয়র সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও চাঁদপুর জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা: মাহমুদুন্নবী মাসুম, সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, সমিতির যুগ্ম সদস্য সচিব তোফায়েল আহম্মদ, সমিতি সদস্য ও চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম সোহেল, সমিতির সদস্য ও চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক  ডা: মো: মাইনুল ইসলাম মজুমদার, চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইমলাম, চাঁদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: জামাল উদ্দিন, সমিতির সদস্য সন্তোষ দাস, সমিতির সদস্য গোপাল চন্দ্র সাহা।
সভায় যাকাত ফান্ড সংগ্রহ করার লক্ষে সকল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থা,হাসপাতাল ক্লিনিক,ডাক্তার, সুধীজনের নিকট সহযোগিতা চেয়ে   চিঠি ইস্যু করা,  রোগীকল্যাণ সমিতির এফডিআর দ্রুত সময়ে ভাঙ্গিয়ে সোনালী ব্যাংকে স্থানান্তর ও তা সাধারণ তহবিলে জমা প্রদান,সমিতির নতুন আজীবন সদস্য ফি  চাঁদা ৩০০০টাকা করা, হাসপাতালে অসহায় রোগী ভর্তিকালীন সময়,  চিকিৎসার জন্য গরীব রোগীকে আর্থিক সহযোগিতা করা,তাৎক্ষনিক  যারা খুবই ক্রিটিকাল রোগীকে  সহায়তা করা, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র ও ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের সহায়তা করা, ৩ মাস পর পর কার্যকরি কমিটির সভা করা,  রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যদের নামে অর্ণার বোর্ড তৈরি করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সমিতির সহ-সভাপতি সাংবাদিক কাজী শাহাদাতকে আহ্বায়ক, সমিতির প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রুশদী, সমিতির সদস্য ডা: সাইফুল ইসলাম সোহেলকে সদস্য করে ৩সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীন অডিট কমিটি গঠন করা হয়।
উক্ত অডিট কমিটিকে সমিতি থেকে চিঠি দিয়ে অবগত করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। উক্ত অডিট কমিটিকে  সমিতির বিগতদিনের আয়-ব্যয় নিরীক্ষণ করত:  পরবর্তী সভায় অডিট প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’