শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে নতুন আঙ্গিকে গ্রীন গার্ডেন পার্কের শুভ উদ্বোধন 

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:২৭ এম
শাহরাস্তিতে নতুন আঙ্গিকে গ্রীন গার্ডেন পার্কের শুভ উদ্বোধন 
শাহরাস্তিতে নতুন আঙ্গিকে গ্রীন গার্ডেন পার্কের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে গ্রীন গার্ডেন ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ আয়োজনে উপজেলার সুচিপাড়া দক্ষিণ ইউপির চিতোষী  নরিংপুর রাস্তায় বাজার সংলগ্ন এলাকায় এটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
আয়োজক সূত্র জানায়, ওই দিন সমিতির অংশীদার শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম খালেদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় সমিতির সভাপতি মো: তাজুল ইসলাম বাবুলের সভাপ্রধানে পরিচালক কবির হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমবায় অফিসার মুহাম্মদ মুজিব উর রহমান খাঁন।
তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য সমিতির গুরুত্ব এবং সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ফসল বলে এটিকে আখ্যায়িত করেন। ওই সময় তিনি ৪ টি জেলার মোহনায় ৭ টি উপজেলা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গ্রীন গার্ডেন ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ অর্থায়নে এটি গ্রীন গার্ডেন পার্কের শুভ উদ্বোধনের ভূয়শি প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গেই সরকারের নিয়ম নীতি মেনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ মোতালেব খান, ডাটরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামছুল আলম বুলবুল, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক আহসান হাবিব, ওমর ফারুক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর জব্বার খোকা ২০৭ জন উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম কর্মী, এলাকার বিশিষ্ট জন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রিন গার্ডেন পরিচালক স্বাগত বক্তব্য বলেন, আমরা এই সমিতির মাধ্যমে ২০৭ জন উদ্যোক্তা, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি।
আমাদের ২৫% কাজ শেষ হয়েছে এখনো ৭৫ % কাজ বাকি। ওই কাজ শেষ হলে এটির দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। আমরা গ্রিন গার্ডেন ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ নিবন্ধন নং-২৬/চাঁদ/২৩, তারিখঃ-১৩/০৬/২০২৩ খ্রিঃ নরিংপুর, শাহরাস্তি, চাঁদপুর নিয়ে এর পথ চলা শুরু করি। বর্তমানে আমাদের সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হবে সুস্থ্য ধারার বিনোদন, রেস্টুরেন্ট এন্ড পাটি সেন্টার, গার্ডেন বিউটি পার্লার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার, গ্রীন গার্ডেন মিনি মার্কেট (পার্কের ভিতরে অবস্থিত),গ্রীন গার্ডেন আবাসন প্রকল্প।উল্লেখ্য, ঈদের আগে ৮ এপ্রিল সোমবার  এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের জন্য  উন্মুক্ত করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’