বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ব্যাভিচারের মামলায় শিক্ষকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৭:৪৪ পিএম
চাঁদপুরে ব্যাভিচারের মামলায় শিক্ষকের কারাদণ্ড
চাঁদপুরে জেলা ও দায়রাজজ আদালতে এ প্রথম ব্যাভিচারের মামলায় এক শিক্ষকের কারাদণ্ড হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া এলাকার আবুল হাসানের ছেলে নাজমুল হাসান (৪০)।
তার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন শাহরাস্তি উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের স্বামী কবির আহম্মেদ। গত ৮ মে ২০২৩ চাঁদপুর বিজ্ঞ বিচারক শাহরাস্তি আমলী আদালতে ব্যাভিচারের মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নং ১৬৯/২০২৩।
সেলিনা পারভীন চাঁদপুর আদালত পাড়া এলাকার মৃত মমিনুল ইসলামের মেয়ে। তিনি লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ জিয়াউল হক জিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ।  সেলিনা পারভীন এক সন্তানের জননী হওয়া স্বত্বেও  আসামী একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাজমুল হাসানের সাথে চাকুরির সুবাদে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি টের পেয়ে স্বাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে সেলিনা পারভীনের স্বামী কবির আহম্মেদ বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, প্রথম ঘটনা ২৮ এপ্রিল ২০২৩ শুক্রবার বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলার স্বামীর বাড়ীতে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কথা মামলার বাদী জানতে পারে।
দ্বিতীয় ঘটনা গত ৭ মে ২০২৩ রবিবার দুপুরে চাঁদপুর খাঁন সড়কে ভাড়া বাসায় ঘটে।
এসব তথ্যপ্রমাণে আইনগত ভাবে প্রমান হওয়ায় ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দন্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী ব্যাভিচারের ঘটনায় বিচারিক সহজাত ক্ষমতা বলে ১ম আসামী নাজমুল হাসানকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও নগদ ৫০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের সময় আসামী আদালতে উপস্থিত থাকায় তাকে আটক করে জেলে প্রেরণ করা হয়।
মামলার বাদী স্বামী কবির আহম্মেদ বলেন, আমার স্ত্রী সেলিনা পারভীন তার প্রতিষ্ঠানের কৃষি শিক্ষার শিক্ষক নাজমুল হাসান এর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় ঘটনার সময় তাদেরকে হাতেনাতে ধরেছি। আমার স্ত্রী পরিবারের কাউকে কোন কর্ণপাত করেনি। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণঅলংকার হাতিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামী সেলিনা পারভীন বলেন, আমার সাথে ঐ শিক্ষকের ভালো সম্পর্ক ছিল। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’