শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৪ ঘন্টার মধ্যে ছেলেকে থানা পুলিশের আটক ও আলামত উদ্ধার

তিন মাস আগে হুমকি দেয়া মাকে কাঁচি দিয়ে জবাই করে হত্যা

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:১০ পিএম
তিন মাস আগে হুমকি দেয়া মাকে কাঁচি দিয়ে জবাই করে হত্যা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রানু বেগম নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ৪ ঘন্টার মধ্যে ছেলে রাসেল খানকে আটক ও ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। এ নিয়ে শনিবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রেস রিলিজ দিয়েছেন চাঁদপুর জেলা পুলিশ।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর গ্রামের বাবুর্চির কাজ করা আতর খাঁন তার স্ত্রী রানু বেগম (৫৭) ও ছোট ছেলে রাসেল খান (২৭) সহ বসবাস করে আসছেন। বিগত ৩ মাস যাবত ছেলে রাসেল খান উশৃঙ্খল চলাফেরা করায় তার বাবা-মা তাকে নিষেধ করলে সে তার বাবা মায়ের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে মারধর করেন। বিষয়টি তখন তার বাবা আতর খাঁন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আহমেদ রাজনকে জানালে বাবা মাকে প্রাণে হত্যা করে ফেলার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসতেছিল।

অতঃপর গত ২৬ এপ্রিল শুক্রবার আতর খাঁন তার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে রেখে ভোর ৫টার দিকে তার কর্মস্থল রূপসা মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি হতে বের হয়ে যায়। পরে এদিন দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মুদি দোকানে কাজ করা রাসেল তার বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে, “আমি মাকে জবাই করে লাশ ঘরে রেখে দিলাম” বলে ফোন কেটে দেয়। আতর খান তাৎক্ষণিক মাদ্রাসা থেকে আধা ঘন্টা পর বাড়িতে এসে নিজ বসত ঘরের খাটের উপর স্ত্রী রানু বেগম এর গলা কাটা লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের উপর দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দিলে ঐ বাড়িসহ আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে উক্ত ঘটনা দেখতে পায়।

খবর পেয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পংকজ কুমার দে ও ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সহ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিম রানু বেগম এর গলা কাটা লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম (বার) এর সার্বিক পরামর্শ ও দিক নির্দেশনায় ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম কৌশলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার কেরোয়া গ্রাম থেকে আসামী রাসেলকে গ্রেফতার করে। আসামী রাসেলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাবার দোচালা টিনশেড বসত ঘরের কাঁড় থেকে আসামী রাসেলের দেখানো মতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা আল কাঁচি এবং ঘটনার সময় আসামীর পরিহিত রক্তমাখা লুঙ্গি ও শার্ট উদ্ধার করেন।

Model Hospital

পরবর্তীতে আতর খান বাদী হয়ে তার ছেলে রাসেল খান এর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে এজাহার দায়ের করলে এই হত্যা মামলাটি রুজু করেন। এই ঘটনার পর পরই চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম (বার) এর সার্বিক দিক-নিদের্শনায় ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে এসআই ইসমাইল হোসেন, রুবেল ফরাজী, এএসআই নাঈম হোসেন, মনিরুল ইসলামসহ একটি চৌকস টিমের কর্মতৎপরতায় এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত চুলচেরা বিশ্লেষণ করে হত্যাকান্ডের সংবাদ প্রাপ্তির ৪ ঘন্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকান্ডটির মূল হোতা আসামী রাসেল (২৭) কে গ্রেফতারসহ ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারসহ আসামীর স্বীকারোক্তি গ্রহন করা হয়। যথাশ্রীঘ্রই মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’