ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সরিষার ভিতরে ভূতের বসবাস

হাইমচর মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জালের সয়লাব” ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ

হাইমচরের মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা  নিধন করছে অসাধু জেলেরা। প্রতিদিন নিধন করা হয় কয়েক কোটি মাছের পোনা। বাঁধা জাল, গচি জাল, চায়না জালসহ নিষিদ্ধ জাল গুলো নদীতে পেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করে চরভৈরবী মাছের আড়তে  প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়। ধ্বংস করা হচ্ছে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই মেঘনায় এ নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মৎস্য পাড়ায় রয়েছে বেশ সমালোচনা।
চরভৈরবী ইউনিয়নের কয়েকজন জেলে জানান, হাইমচর উপজেলার সবচাইতে বড় মাছের আড়ত হচ্ছে চরভৈরবী। এখানের বেশিরভাগ আড়তদার প্রভাবশালী। নজরুল ইসলাম নজু ফকির, হুমায়ুন প্রধানীয়া, বিল্লাল বেপারী, সৈয়দ চৈদার, ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল চোকদারের আড়তে প্রতিদিন ভোর ৬ টায় নিষিদ্ধ জালের নিধনকৃত মাছের পোনা গুলো বিক্রি করে। এই আড়তদাররা নীলকমল নৌপুলিশসহ  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আয়কৃত টাকার ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি সবাই জানে, চায়ের দোকানে পাড়া মহল্লায় আলোচনা হয়। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলে না। এ লোক গুলো যদি জানে আমরা আপনাদের তথ্য দিয়েছি তাহলে বাড়ি ঘরে থাকতে দিবে না। আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করবে। তাদের অপকর্মের কথা সবাই জানে ভয়ে মুখ খুলে না। বলেই কি হবে আর আপনারা লেখলেই কি হবে মাছের পোনা নিধন কখনোই বন্ধ হবে না। কারণ সরিষার ভিতরে ভূতের বসবাস।
চরভৈরবী আড়তদার নজু ফকির বলেন, আমার আড়তে গচি জালের মাছ বিক্রি হয়। কিন্তু বাঁধা জাল কিংবা চায়না জালের মাছ বিক্রি হয় না।
ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ জুবায়ের শিমুল জানান, আমাদের চরভৈরবী আড়তে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে নিধনকৃত মাছের পোনা বিক্রির সংবাদ পেয়ে আজ আড়তে গিয়ে সকল আড়তদার ও জেলেদেরকে মাছের পোনা নিধন ও বিক্রির জন্য নিষেধ করেছি। আমি মাছের পোনা নিধনকৃত জেলেদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল রাতে নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছি। নদীতে জোয়ার থাকায় কোন গচি জাল পাই নি। বাঁধা জালের নৌকা গুলো আমাদের দেখে পালিয়ে যায়। আমরা এসকল নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ নিধন বন্ধ করার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাবুবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছের পোনা নিধনের সংবাদ পেয়ে নদীতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু গচি জাল উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছি। নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অটো চালকের মৃত্যু

সরিষার ভিতরে ভূতের বসবাস

হাইমচর মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জালের সয়লাব” ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ

আপডেট সময় : ০৯:২৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
হাইমচরের মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা  নিধন করছে অসাধু জেলেরা। প্রতিদিন নিধন করা হয় কয়েক কোটি মাছের পোনা। বাঁধা জাল, গচি জাল, চায়না জালসহ নিষিদ্ধ জাল গুলো নদীতে পেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করে চরভৈরবী মাছের আড়তে  প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়। ধ্বংস করা হচ্ছে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই মেঘনায় এ নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মৎস্য পাড়ায় রয়েছে বেশ সমালোচনা।
চরভৈরবী ইউনিয়নের কয়েকজন জেলে জানান, হাইমচর উপজেলার সবচাইতে বড় মাছের আড়ত হচ্ছে চরভৈরবী। এখানের বেশিরভাগ আড়তদার প্রভাবশালী। নজরুল ইসলাম নজু ফকির, হুমায়ুন প্রধানীয়া, বিল্লাল বেপারী, সৈয়দ চৈদার, ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল চোকদারের আড়তে প্রতিদিন ভোর ৬ টায় নিষিদ্ধ জালের নিধনকৃত মাছের পোনা গুলো বিক্রি করে। এই আড়তদাররা নীলকমল নৌপুলিশসহ  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আয়কৃত টাকার ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি সবাই জানে, চায়ের দোকানে পাড়া মহল্লায় আলোচনা হয়। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলে না। এ লোক গুলো যদি জানে আমরা আপনাদের তথ্য দিয়েছি তাহলে বাড়ি ঘরে থাকতে দিবে না। আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করবে। তাদের অপকর্মের কথা সবাই জানে ভয়ে মুখ খুলে না। বলেই কি হবে আর আপনারা লেখলেই কি হবে মাছের পোনা নিধন কখনোই বন্ধ হবে না। কারণ সরিষার ভিতরে ভূতের বসবাস।
চরভৈরবী আড়তদার নজু ফকির বলেন, আমার আড়তে গচি জালের মাছ বিক্রি হয়। কিন্তু বাঁধা জাল কিংবা চায়না জালের মাছ বিক্রি হয় না।
ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ জুবায়ের শিমুল জানান, আমাদের চরভৈরবী আড়তে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে নিধনকৃত মাছের পোনা বিক্রির সংবাদ পেয়ে আজ আড়তে গিয়ে সকল আড়তদার ও জেলেদেরকে মাছের পোনা নিধন ও বিক্রির জন্য নিষেধ করেছি। আমি মাছের পোনা নিধনকৃত জেলেদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল রাতে নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছি। নদীতে জোয়ার থাকায় কোন গচি জাল পাই নি। বাঁধা জালের নৌকা গুলো আমাদের দেখে পালিয়ে যায়। আমরা এসকল নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ নিধন বন্ধ করার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাবুবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছের পোনা নিধনের সংবাদ পেয়ে নদীতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু গচি জাল উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছি। নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।