ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ভোটারদের প্রতি আইয়ুব আলী বেপারীর আহ্বান

আপনারা আমার জন্য একদিন কষ্ট করুন, আমি পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থাকবো

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষদিনে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দোয়াতকলম মার্কার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আইয়ুব আলী বেপারী।

Model Hospital

তিনি গতকাল রোববার নির্বাচনী প্রচারণার শেষদিন চাঁদপুর পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তাঁর সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতৃবৃন্দ ছিলেন। গণসংযোগের পাশাপাশি উঠোন বৈঠক ও পথসভাও হয়েছে। এসব গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক ও পথসভায় ব্যাপক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।

এসব গণসংযোগে আইয়ুব আলী বেপারী বলেন, এই চাঁদপুর শহরে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আমার পড়াশোনা, রাজনীতি, ব্যবসা সবকিছু এই শহরে। আমাকে আপনারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আমার সম্পর্কে ভালো-মন্দ সব আপনাদের জানা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবং কর্মজীবনে আমি কাউকে কষ্ট দিয়েছি, আমার দ্বারা কারো ক্ষতি হয়নি। আমার দ্বারা কেহ অসম্মানিত হয়েছেন এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই এবং কেহ বলতেও পারবে না।

আমি কখনো কারো আমানতের খেয়ানত করি নাই। পাঁচ বছর এই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। আপনারা জানেন একজন ভাইস চেয়ারম্যানের হাতে তেমন কিছুই নেই। উপজেলা পরিষদে সবকিছু চেয়ারম্যান কেন্দ্রিক। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সবসময় মানুষকে ভালোবাসতে চেষ্টা করেছি। কারো বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা আমার সবসময় থাকে। করোনা মহামারীর সময় আমি আমার জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তাদের পাশে থাকার। মানুষের দুঃখে পাশে থাকার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকে। সেটা এখনো ধরে রেখেছি। সত্যিকার অর্থে মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যে এবং সম্মানের জন্যই আমি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আপনারা একদিন আমার জন্য কষ্ট করবেন, আমি পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থাকবো।

সম্মানিত ভোটারদের প্রতি দোয়াতকলম মার্কায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পাঁচজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আপনাদের কাছে সবার আমলনামা আছে। কোনো এক প্রার্থীকে জনগণ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের হোতা, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে চেনে। এই সিন্ডিকেটের অত্যাচারে তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নবাসী ও পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডবাসী অতিষ্ঠ এবং জিম্মি হয়ে আছে।

এসব এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়ায় আমাদের কাছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণ স্বেচ্ছায় এসে আমাদের কাছে কানেকানে বলেছে, আমরা এই এলাকার (তরপুরচণ্ডী ও পৌর ১৫নং ওয়ার্ড) মানুষ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এখানে কোনো মানুষ এক ইঞ্চি জায়গা কিনতেও তাদেরকে টাকা দিতে হয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই এই সিন্ডিকেটের বাইরে যাওয়া যায় না। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই মোটা অংকের টাকা দিতে হয় এই সিন্ডিকেটকে। বহু মানুষের জায়গা-জমি এবং বাসা-বাড়ি তারা জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে আছে। আর মাদকের কথা বলে তো শেষ করা যাবে না। এই সিন্ডিকেট চক্র পুরো এলাকাকে মাদকে সয়লাব করে দিয়েছে।

অপরাধ জগতের ভয়ংকর এই সিন্ডিকেট চক্রের গডফাদার যদি উপজেলা পরিষদের চেয়ারে একবার বসতে পারে তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে, কোনো ভালো মানুষ, ভদ্রলোক এই উপজেলায় বসবাস করতে পারবে না। এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষগুলো ওই প্রার্থী এবং তার সিন্ডিকেটের ব্যাপারে এভাবেই আশঙ্কা ব্যক্ত করল। তারা আরো বলেন, চেয়ারম্যান না হতেই তাদের যে দৌরাত্ম্য, আস্ফালন এবং হুমকি ধমকি! চেয়ারম্যান হলে তো আর কোনো ভালো লোক শান্তিতে এসব এলাকায় বসবাস করতে পারবে না।

এসব আশঙ্কার কথা শুনে আমি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছি- আপনারা নির্ভয়ে ২১ মে ভোট কেন্দ্রে যাবেন, আমার মার্কা দোয়াতকলমে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবেন। ইনশাআল্লাহ আমি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি মাদক, ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট আমি নির্মূল করবো।

আপনারা আমার পাশে থাকলে এসব অপশক্তি সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র। কোনো ভূমিদস্যু ও মাদক সিন্ডিকেটের দখলে যেনো এই পবিত্র চেয়ারটি না যায় সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি রাখতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গরু জবাই করার সময় হার্ট অ্যাটাকে মৃ’ত্যু

ভোটারদের প্রতি আইয়ুব আলী বেপারীর আহ্বান

আপনারা আমার জন্য একদিন কষ্ট করুন, আমি পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থাকবো

আপডেট সময় : ১০:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষদিনে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দোয়াতকলম মার্কার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আইয়ুব আলী বেপারী।

Model Hospital

তিনি গতকাল রোববার নির্বাচনী প্রচারণার শেষদিন চাঁদপুর পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তাঁর সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতৃবৃন্দ ছিলেন। গণসংযোগের পাশাপাশি উঠোন বৈঠক ও পথসভাও হয়েছে। এসব গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক ও পথসভায় ব্যাপক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।

এসব গণসংযোগে আইয়ুব আলী বেপারী বলেন, এই চাঁদপুর শহরে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আমার পড়াশোনা, রাজনীতি, ব্যবসা সবকিছু এই শহরে। আমাকে আপনারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আমার সম্পর্কে ভালো-মন্দ সব আপনাদের জানা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবং কর্মজীবনে আমি কাউকে কষ্ট দিয়েছি, আমার দ্বারা কারো ক্ষতি হয়নি। আমার দ্বারা কেহ অসম্মানিত হয়েছেন এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই এবং কেহ বলতেও পারবে না।

আমি কখনো কারো আমানতের খেয়ানত করি নাই। পাঁচ বছর এই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। আপনারা জানেন একজন ভাইস চেয়ারম্যানের হাতে তেমন কিছুই নেই। উপজেলা পরিষদে সবকিছু চেয়ারম্যান কেন্দ্রিক। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সবসময় মানুষকে ভালোবাসতে চেষ্টা করেছি। কারো বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা আমার সবসময় থাকে। করোনা মহামারীর সময় আমি আমার জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তাদের পাশে থাকার। মানুষের দুঃখে পাশে থাকার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকে। সেটা এখনো ধরে রেখেছি। সত্যিকার অর্থে মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যে এবং সম্মানের জন্যই আমি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আপনারা একদিন আমার জন্য কষ্ট করবেন, আমি পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থাকবো।

সম্মানিত ভোটারদের প্রতি দোয়াতকলম মার্কায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পাঁচজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আপনাদের কাছে সবার আমলনামা আছে। কোনো এক প্রার্থীকে জনগণ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের হোতা, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে চেনে। এই সিন্ডিকেটের অত্যাচারে তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নবাসী ও পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডবাসী অতিষ্ঠ এবং জিম্মি হয়ে আছে।

এসব এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়ায় আমাদের কাছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণ স্বেচ্ছায় এসে আমাদের কাছে কানেকানে বলেছে, আমরা এই এলাকার (তরপুরচণ্ডী ও পৌর ১৫নং ওয়ার্ড) মানুষ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এখানে কোনো মানুষ এক ইঞ্চি জায়গা কিনতেও তাদেরকে টাকা দিতে হয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই এই সিন্ডিকেটের বাইরে যাওয়া যায় না। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই মোটা অংকের টাকা দিতে হয় এই সিন্ডিকেটকে। বহু মানুষের জায়গা-জমি এবং বাসা-বাড়ি তারা জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে আছে। আর মাদকের কথা বলে তো শেষ করা যাবে না। এই সিন্ডিকেট চক্র পুরো এলাকাকে মাদকে সয়লাব করে দিয়েছে।

অপরাধ জগতের ভয়ংকর এই সিন্ডিকেট চক্রের গডফাদার যদি উপজেলা পরিষদের চেয়ারে একবার বসতে পারে তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে, কোনো ভালো মানুষ, ভদ্রলোক এই উপজেলায় বসবাস করতে পারবে না। এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষগুলো ওই প্রার্থী এবং তার সিন্ডিকেটের ব্যাপারে এভাবেই আশঙ্কা ব্যক্ত করল। তারা আরো বলেন, চেয়ারম্যান না হতেই তাদের যে দৌরাত্ম্য, আস্ফালন এবং হুমকি ধমকি! চেয়ারম্যান হলে তো আর কোনো ভালো লোক শান্তিতে এসব এলাকায় বসবাস করতে পারবে না।

এসব আশঙ্কার কথা শুনে আমি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছি- আপনারা নির্ভয়ে ২১ মে ভোট কেন্দ্রে যাবেন, আমার মার্কা দোয়াতকলমে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবেন। ইনশাআল্লাহ আমি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি মাদক, ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট আমি নির্মূল করবো।

আপনারা আমার পাশে থাকলে এসব অপশক্তি সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র। কোনো ভূমিদস্যু ও মাদক সিন্ডিকেটের দখলে যেনো এই পবিত্র চেয়ারটি না যায় সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি রাখতে হবে।