বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হয়রানির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা

অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করায় ফরিদগঞ্জ-চট্টগ্রাম রুটে শাহী-জোনাকী বাস চলাচল বন্দ!

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪, ৭:৩৭ পিএম
অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করায় ফরিদগঞ্জ-চট্টগ্রাম রুটে শাহী-জোনাকী বাস চলাচল বন্দ!

প্রায় ৩৫ বছর দরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলছিল শাহী ও জোনাকী বাস। গাড়ি প্রতি ৬০ টাকা চাঁদা দিয়েই চলতো। গত এক সপ্তাহ পূর্বে চাঁদপুর শ্রমিক- মালিক সমিতির ইউনিয়নের লোকজন অতিরিক্ত আরো ১২০ টাকা চাঁদা দাবি করলে এই দুই বাস মালিক এই রুটে বাস চলাচল বন্দ করে দেন। এতে বিপাকে পড়েন ফরিদগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা।

ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ভোর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু করে সকাল সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত চলাচল করতো শাহী ও জোনাকী বাস। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

শাহী বাস মালিক রায়হান আহমেদ জানান, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করেন, সে কারনে আমরা এ রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। দীর্ঘ ৩৫ বছর এ রুটে আামাদের গাড়ি চলাচল করে আসছিল, প্রায় প্রতিনিয়তই আমরা লোকসান দিয়ে জনসাধারনের ভালোবাসায় এই রুটে গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ আমাদের সাথে কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই বাড়তি ১২০টাকা বাড়তি চাঁদা দাবি করে। যাহা মোটেই কাম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত চাঁদা দিয়ে আমরা এ রুটে ব্যবসা করবো না। চাঁদার বিষয়টি সমাধান হলে আমরা এই রুটে গাড়ি চালাবো।

Model Hospital

চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের মধ্যে সাগর, ফাতেমা, কবির, পারভিন, বুলু বেগমসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে জানান, দীর্ঘ দিন ফরিদগঞ্জ থেকে সকালে ভোরে শাহী বা জোনাকী বাসে করে চট্টগ্রাম যেতাম। হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। এখন আমরা ফরিদগঞ্জ থেকে দুইটি গাড়ি বদল করে রায়পুর যেতে হয়। এতে করে বাড়তি টাকা, সময় ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। আমারা চাই এই উপজেলার নেতারা অচিরেই জনসাধারণের কথা বিবেচনা করে সকল ধরনের সমস্যা সমাধান করবেন।

চাঁদপুর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বুলবুল মিজি জানান, শাহী ও জোনাকী বাস চাঁদপুর ডিসি আইটি কমিনিউটির আইন অমান্য করে দীর্ঘ দিন গাড়ি চালিয়েছে। ফরিদগঞ্জ থেকে চট্রগ্রাম এই গাড়ি চলাচলের অনুমোদন নাই। পরিবহেনর নিতিমালা অনুযায়ী এই রুটের রুট পারমিট ও জেলা মালিক শ্রমিক ইউনিয়নের অনুমতি লাগবে। কিন্তু শাহী ও জোনাকী বাস তা নেয় নি। তাই আমরা বলেছি এই রুটে গাড়ি চালাতে হলে তারা যেন নিয়ম অনুযায়ী রুট পারমিট নিয়ে গাড়ি চালায়। অতিরিক্ত চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

আমরা একটি চাঁদার বিবরণ পেয়েছি, এই রুটে গাড়ি চলতে হলে আগে পৌর ইজারাদার ২০ ও পার্কিং ভাবত ৪০ টাকা দিত গাড়ির লোকজন। গত ৮ দিন পূর্বে আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পৌর ইজারাদার ২০, লাইনম্যান ২০, উপজেলা মালিক সমিতি ২০, উপজেলা শ্রমিক কমিনিউটি ২০, জেলা মালিক সমিতি ৩০, জেলা শ্রমিক কমিনিউটি ৩০ ও পার্কিং ভাবত ৪০ মোট ১৮০ টাকা দিতে হবে। এই চাঁদা দিতে না পেরে শাহী ও জোনাকী বাস কর্তৃপক্ষ এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রুট ব্যবহার করলে এইসব চাঁদা দেওয়া লাগে এইটি নিয়ম।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জনেছি, কোন প্রকার অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, শাহী এবং জোনাকি বাস চাঁদপুরের রুট ব্যবহার করে কিন্তু শ্রমিক ইউনিয়নকে কোন চাঁদা দেয়না। তারা জৈনক রাজা নামের ব্যক্তিকে পার্কিংয়ের নামে ৪০ টাকা চাঁদা দিয়ে। অথচ সরকারের সম্পতি ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন অবৈদ ভাবে চাঁদা নিচ্ছে। এ রুটে গাড়ি চালাতে হলে শ্রমিক সংগঠনকে চাঁদা দিতে হবে এবং শ্রমিক আইন মানতে হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে আনন্দ গাড়িও একই দারায় তিন দিন বন্ধ থাকার পর অতিরিক্ত ৪০ টাকা চাঁদা দিয়ে এই রুট ব্যবহার করছে। পূর্বে প্রতিটি আনন্দ গাড়ি ৬০ টাকা চাঁদা দিত এখন ৪০ টাকা রাড়িয়ে ১০০ টাকা দিচ্ছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital