শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে শিশু ধ’র্ষ’ণে’র অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০২৪, ৯:৪৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে শিশু ধ’র্ষ’ণে’র অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আবদুর রশিদকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বড়গাঁও এলাকায় শিশু ধর্ষণ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে থানার এসআই ইসমাইল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বাবা ইটভাটায় কাজ করার সুবাধে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। শিশুটির মা ৭ বছরের শিশুকে বাড়িতে রেখে পাশের বাড়িতে কাজ করতে যায়। এরপর শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলার সময় অভিযুক্ত বৃদ্ধ আবদুর রশিদ শিশুটিকে ডেকে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ শেষে শিশুকে ২০ টাকা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং বলে এই ঘটনাটি যেন কাউকে না বালে। শিশুটি কান্না করতে করতে ঘর থেকে বের হলে শিশুর দাদী কান্নার কারণ জানতে চাইলে ঘটনাটি বলে। এরপর শিশুটির বাবাকে খবর দিলে বাবা বাড়িতে এসে থানা পুলিশকে অবগত করে।

Model Hospital

পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ আটককৃত আবদুর রশিদকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে।

এবিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, শিশু ধর্ষণের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে এস আই ইসমাইলকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে হয়। এরপর শিশুটির বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে বৃদ্ধকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং শিশুটির মেডিক্যাল টেস্টের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্যঃ বৃদ্ধ আবদুর রশিদের পরিবারের লোকজন বলেছেন এই ঘটনাটি সাজানো নাটক। আমাদের পাষাণোর জন্য শিশুটির পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত এই ঘটনা সাজিয়েছে। প্রশাসনের লোকজনের কাছে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত বৃদ্ধর পরিবারের লোকজন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’