শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সিগারেট কোম্পানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিপক্ষ: অংশীদার হওয়ার যুক্তি হাস্যকর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৫৬ পিএম
সিগারেট কোম্পানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিপক্ষ: অংশীদার হওয়ার যুক্তি হাস্যকর

আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সিগারেট কোম্পানিগুলো নিজেদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অংশীদার হিসেবে দাবি করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিরোধীতা করছে। সম্প্রতি একটি পত্রিকায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সিগারেট কোম্পানির মতামত নেয়া হয়নি বলে প্রচার করা হয়েছে। প্রথমেই বিবেচনা করা দরকার তামাক কোম্পানির এ দাবি কতটুকু সাংবিধানিক এবং যৌক্তিক। স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন মূলত তারাই, যারা একই ধরণের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের সহযোগী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমানো এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন। অপরদিকে তামাক কোম্পানির উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা অর্জন। জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই। বিশ্বের কোন তামাক কোম্পানিই জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের ব্যবসা এবং মুনাফা কমাতে চাইবে না। তামাক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা বাড়াতে নানা কৌশলে কিশোর ও তরুণদের সিগারেট সেবনে উৎসাহী করছে। ঢাকার অনেক রেষ্টুরেন্টে সিগারেট কোম্পানির টাকায় তরুণদের উৎসাহী করতে ধূমপানের জন্য স্থান তৈরী করে দেয়া হয়েছে। সম্ভব হলে তারা হয়তো শিশুদেরও ধূমপায়ী বানানোর চেষ্টা চালাবে।

সিগারেট এবং তামাক কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য পারস্পারিক সাংঘর্ষিক ও সম্পূর্ণ বিপরীত। সাংঘর্ষিক উদ্দেশ্য নিয়ে নিজেদের কোনভাবেই তামাক কোম্পানিগুলো অংশীদার দাবি করতে পারে না। তামাক কোম্পানিগুলো প্রত্যাশা করে সিগারেট সেবন বাড়ুক যাতে করে তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটে।

তামাকজনিত কারণে সৃষ্ট রোগ ও মৃত্যু কমানো কোনভাবেই তাদের উদ্দেশ্য নয়। এগুলো যদি সিগারেট কোম্পানির উদ্দেশ্য না হয়, তবে তারা কিভাবে নিজেদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অংশীজন হিসেবে দাবি করে। তামাক কোম্পানিগুলোর এ ধরনের দাবী সত্যিই বিস্ময়কর এবং হাস্যকর! বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট মনে করে, প্রকৃতপক্ষে রোগ ও মৃত্যু সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষের সাথে আলোচনা মানে, জনস্বাস্থ্য রক্ষাকে অবজ্ঞা করা এবং জনগণের রোগ ও মৃত্যু নিয়ে বাণিজ্য করাকে স্বীকৃতি দেয়া।

Model Hospital

তামাক মাদকের প্রবেশ পথ। রাজস্ব হারানোর মিথ্যা ভয়ে নিজের সন্তানদের তামাক কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেয়া যাবে না। তামাক কোম্পানির অবাধ ব্যবসা মানে, আমাদের সন্তানদের ধূমপানে আসক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রের নাগরিকদের রোগ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে কোম্পানির মতামত নেয়া সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এফসিটিসি-র পরিপন্থী।

সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে মদ ও স্বাস্থ্য হানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের উচিত তামাক ব্যবহারে আরো কঠোর হওয়া।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগামী প্রজন্মকে সিগারেট ও তামাক হতে দুরে রাখতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি দ্রুত অধিক শক্তিশালী করা জরুরি।

আন্তরিক ধন্যবাদসহ

(সাইফুদ্দিন আহমেদ)

সমন্বয়কারী

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।