বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর বাড়িতে আগুন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৪, ৬:০৮ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর বাড়িতে আগুন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বীর বিক্রমের চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরের বাড়ির দুটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (১৭ নভেম্বর) ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর মতলব উত্তর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুরুল করিম, বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে আগুনের খবর পাই। মায়া চৌধুরীর বাড়ির দুটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রদীপ বলেন, রাতে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। আমাদের এসপি মহোদয়ের নির্দেশে যৌথবাহিনীর ইনচার্জ স্যারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যাই। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর আমরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) খায়রুল কবির চৌধুরী বলেন, আমরা সন্ধ্যার দিকে সাবেক এমপি মায়া চৌধুরীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাই। এরপর আমরা দ্রুত সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস নিয়ে যাই।
তিনি আরও বলেন, দুটি বাড়ির নিচতলায় ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে আগুন নিচতলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত সে বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি।
এমন ঘটনাকে বিএনপি এক বিন্দুও সমর্থন করে না উল্লেখ করে মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক জিতু বলেন, আমরা এই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক মনে করি। কোনোভাবেই এটাকে সমর্থন করি না।
তিনি আরও বলেন, মায়া চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নয়। কারণ, আমাদের নেতা তারেক রহমান। তিনিসহ আমরা সবাই কখনোই এমন সহিংসতার রাজনীতি করি না বা আশ্রয়-প্রশ্রয়ও দিই না।
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সারোয়ার মজুমদার বলেন, আমরা এটিকে ন্যক্কারজনক ঘটনা মনে করি। আমরা এটিকে এক বিন্দুও সমর্থন করি না। এ ঘটনায় আমাদের পরিবারের কোনও সদস্য কোনোভাবেই জড়িত নেই। আমাদের নেতা তারেক রহমান। আমরা কখনোই সহিংসতার রাজনীতি করি না। সহিংসতার রাজনীতিকে আমরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিই না। তাদের মধ্যকার বিবাদমান গ্রুপ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে শুনেছি।
কেন্দ্রীয় কৃষকলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে এক পোস্টে তিনি লিখেন, বিএনপিকে প্রশ্নষিদ্ধের অপকৌশল হতে পারে! রাষ্ট্রের যে কোনো নাগরিকের বাড়িতে আগুন দেয়া ফৌজদারি অপরাধ, প্রকৃত অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনুন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে মায়া চৌধুরী আত্মগোপনে রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।