শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির বই উপহার মাস ২০২৪

বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি সংবর্ধনা পাচ্ছেন জয়ন্তী লিমা নাজমুল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:৩১ পিএম
বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি সংবর্ধনা পাচ্ছেন জয়ন্তী লিমা নাজমুল

ছড়িয়ে দিতে বই, পথের মানুষ হই-স্লোগানে নভেম্বর মাসকে ৪র্থ বই উপহার মাস ঘোষণা করে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। ঘোষণার পর থেকে মাসজুড়ে চলে বই উপহার কর্মসূচি।

পথেঘাটে, অফিস-আদালতে, স্কুল-কলেজে, এমনকি যানবাহনেও উপহার দেওয়া হয় বই।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের হাতে বই উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ মাসে বিনামূল্যে এক হাজার বই পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রতিষ্ঠানটি। মাদক ও বাল্যবিবাহ রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এমন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান, একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি।

বাছাই কমিটির প্রধান দিলীপ ঘোষ জানান, কর্মসূচিতে চর্যাপদ একাডেমির সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিদের্শনা অনুযায়ী দেশের নানান প্রান্তে ছুটে গিয়ে বই উপহার প্রদান করে। এরমধ্যে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে কর্মসূচির প্রচার-প্রচারণা, অধিক দিবস কর্মসূচি পালন ও সর্বোচ্চ সংখ্যক বই উপহার প্রদান করে ‘বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি-২০২৪’ মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে তিনজন।

Model Hospital

সার্বিকভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন একাডেমির সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক এবং কর্মসূচির প্রচার-প্রচারণা ও বহুসংখ্যক বই উপহার প্রদানের ক্ষেত্রে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা এবং প্রচার ও প্রকাশনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম। পয়েন্ট সমান পর্যায়ে থাকায় দুজনকেই শ্রেষ্ঠ সারথি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে টানা ৩য় বারের মতো শ্রেষ্ঠ সারথির মর্যাদা লাভ করেছেন জয়ন্তী ভৌমিক।

বই উপহার মাসের আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান রণি জানান, পুরো নভেম্বর মাস চলবে বই উপহার কর্মসূচি। প্রতিদিন বিভিন্ন পাঠকের হাতে বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয় বই। এতে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। এতো বড় চ্যালেঞ্জিং কর্মসূচিতে যে সকল সদস্য অধিক পরিমাণে পরিশ্রম করেছে এবং যাদের অবদান তুলনামূলকভাবে একটু বেশি, তাদের জন্যে ‘বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি’ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সমাপনী দিবসে তাদের প্রতি আমরা সম্মান জানাবো।

চর্যাপদ একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা জানান, শ্রেষ্ঠ সারথি সংবর্ধনা যারা পাচ্ছে তারা সীমাহীন পরিশ্রম করেছে। দূরদূরান্তে গিয়ে মানুষের হাতে বই তুলে দিয়েছে। তাদের কর্মদক্ষতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বছরও আমরা ‘বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি-২০২৪’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বই উপহার কর্মসূচি পালন করে আসছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। ২০২১ সাল থেকে টানা ৪র্থ বারের মতো বই উপহার মাস পালন করছে। এর মধ্যে একটি ‘বই উপহার মেলা’ও করেছে এ প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, এ পর্যন্ত ১২ হাজারের অধিক বই উপহার দিয়েছে চর্যাপদ একাডেমি।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।