বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে

জমি বিক্রির নামে প্রতারণা, প্রতিকার পেতে ঘুরছেন প্রতিবন্ধী বাবা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:১২ পিএম
জমি বিক্রির নামে প্রতারণা, প্রতিকার পেতে ঘুরছেন প্রতিবন্ধী বাবা

ছবি: রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী।

ফরিদগঞ্জে জমির বিক্রির নামে প্রতারণা করে কাজী শাহাদাৎ হোসেন নামে এক প্রবাসীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রফিক পাটওয়ারী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কাছিয়াড়া গ্রামের।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, কাজী শাহাদাৎ একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি পৌরসভার কাছিয়াড়া গ্রামের কাজী মিজানুর রহমানের ছেলে। ২০২২ সালের শেষের দিকে ক্রয়ের জন্য জমি অনুসন্ধান করলে বিষয়টি জানতে ফুফু খুকী বেগম ও তার স্বামী রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী শাহাদাতের বাড়ির কাছেই নিজেদের একটি জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব করেন। লোকেশন এবং জমি পছন্দ হওয়ায় তারা লেনদেনে সম্মত হন। ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তিন শত টাকার স্ট্যাম্পে তারা বায়না চুক্তিতে আবদ্ধ হন। বায়না বাবদ বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে মোট ৯ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়।

একপর্যায়ে উল্লেখিত জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিতে গেলে জানা যায় জমিটি রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারীর নয় বরং তার ভাই সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারীর। ইতিমধ্যে সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারীর ওয়ারিশগণ জমিটি তাদের নামে নামজারী করে নিয়েছেন এবং জমিটিতে তারা দখলে রয়েছেন। ফলে জমি না পেয়ে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন কাজী শাহাদাত ও তাঁর পিতা কাজী মিজানুর রহমান। শুরুতেই ৪ লক্ষ টাকা ফেরত দেন রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী। অবশিষ্ট ৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করেন তিনি। টাকা ফেরতের তাগাদা দিলে আওয়ামীলীগের সক্রিয় সমর্থক হওয়ায় তিনি দলের প্রভাব খাটাতে শুরু করেন।

Model Hospital

বিষয়টি মিমাংসা করতে শাহাদাতকেও দেশে আসতে বাধ্য করেন তিনি। এরপরও মিমাংসা না হওয়ায় বিষয়টি পৌর মেয়রের আদালতে গড়ায়। সেখানে একাধিক ধাপ শুনানী শেষে ১৪ মে ২০২৪ তারিখে দুই কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী ও মোহাম্মদ হোসেনের উপস্থিতিতে অবশিষ্ট ৫ লক্ষ টাকা ফেরতের আদেশ দেন তৎকালীন পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী। আদেশ প্রদানকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে বাদী-বিবাদী উভয়ের প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক বাবুল ও মো. হানিফ কাজী উপস্থিত ছিলেন। এরপরও নানান বাহানায় টাকা ফেরত দেননি রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো অশোভন আচরন ও হুমকি-ধমকি প্রদান করেন তিনি।

এ বিষয়ে কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। ছেলের রুজির উপরেই আমার পুরো পরিবার। আমার বোন এবং ভগ্নিপতি আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে জমির ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বিভ্রান্ত করে আমার ছেলের টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে আত্মীয়তার সম্পর্ক অস্বীকার করে এতদিন আওয়ামিলীগের পাওয়ার দেখিয়েছে। এখনো টাকা ফেরত দেওয়ার কোন তৎপরতা তার নেই। শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দৌঁড়ঝাপ করা আমার জন্য কঠিন। তারপরও সমাজের দায়িত্বশীল মহলের যাদেরকেই জানিয়েছি সমাধান করতে গিয়ে তারাই রফিকের দ্বারা অবমূল্যায়িত হয়েছেন। গালমন্দের শিকার হয়েছেন। রফিকের খুঁটির জোর কোথায় আমি জানিনা। তবে অন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আমার বিনীত আবেদন, তারা যেন আমার ছেলের টাকাটা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

ভুক্তভোগী কাজী শাহাদাত মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আত্মীয় হিসেবে তার প্রতি আস্থা রেখে আমি প্রতারিত হয়েছি। ২৪ এর গণবিপ্লবে আমরা প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। অথচ স্বৈরাচার সরকারের সমর্থক রফিক পাটওয়ারী এখনো আমার পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টা হয়রানি করে চলছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার একজন প্রবাসী বান্ধব সরকার। আমি একজন প্রবাসী হিসেবে আমার পাওনা অর্থ ফেরত পেতে সরকারের দায়িত্বশীল মহলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

অভিযুক্ত রফিক পাটওয়ারীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনিও আমার কাছে আসেন, মিজান কাজীকেও কষ্ট করে নিয়ে আসেন। এ সময় রফিক পাটওয়ারীর স্ত্রী খুকি বেগম ফোনে বলেন, আপনি কোন সাংবাদিক? কি লিখবেন আপনি শুনি? আপনার জন্যও কিন্তু রিপোর্ট আছে। বাবার উপর বাবা আছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।