বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে তিন যুবদল কর্মী হত্যার ১১ বছর পর মামলা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:০৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে তিন যুবদল কর্মী হত্যার ১১ বছর পর মামলা

ফরিদগঞ্জে তিন যুবদল কর্মী হত্যার ১১ বছর পর আদালতে মামলা হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ রবিবার ফরিদগঞ্জ আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহত যুবদল কর্মী আরিফ হোসেনের ভাই দেলোয়ার হোসেন। এতে ৩৩৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৭৩৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবীতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় ১৮ দলীয় জোট। এরই অংশ হিসেবে ঐদিন বিকাল ৪ টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার জোট নেতাকর্মীরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা একযোগে মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়।

ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নাজমুল হকের দেওয়া তথ্যানুসারে মিছিলে ২৪২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ২৯ রাউন্ড চায়না পিস্তলের গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোঁড়া হয়। মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদলের তিন কর্মী জাহাঙ্গীর বেপারী, আরিফ হোসেন ও বাবুল ভূঁইয়া নিহত হন।

পরিবারের পক্ষ থেকে ঐ সময়ে মামলা করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাল্টা মামলার কারণে তাদের মামলাগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং উল্টো মামলায় বাড়িঘর ছাড়তে হয় তাদের।

Model Hospital

১১ বছরের অধিক সময় মুখ বুঝে সব সহ্য করলেও জুলাই আন্দোলনে পট পরিবর্তন হলে বিচারের প্রত্যাশায় নতুন করে বুক বাঁধেন ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালতে মামলা করেন নিহত আরিফ হোসেনের ভাই দেলোয়ার হোসেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার, জাহিদুল ইসলাম রোমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম কাজল, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহফুজুল হক, যুবলীগ নেতা মো. মাসুদ হোসেন ভুঞা (কিলার মাসুদ),

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. অহিদুর রহমান রানা, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম রিপন, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারী আকবর হোসেন মনিরসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৩৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০০ জনসহ মোট ৭৩৫ জনকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। তবে এতে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাউকে আসামী করা হয়নি।

নিহত জাহাঙ্গীর বেপারী উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গাজীপুর তিনকড়ি বেপারী বাড়ির আব্দুল মতিন বেপারী ও তফুরেরনেছা দম্পতির ছোট ছেলে। রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের আব্দুল আলিম ও হাজেরা বেগমের ছেলে আরিফ হোসেন এবং একই ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম ও সফুরা বেগমের ছেলে বাবুল ভূঁইয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করেছি। আমি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।

মামলার আইনজীবী মো. আবুল খায়ের স্বপন বলেন, মামলাটি আদালত আমলে নেয়ার পর তৎকালীন সময়ে ফরিদগঞ্জ থানায় যে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ঐ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য থানাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রতিবেদন পাওয়ার পরে মামলাটির পরবর্তী নির্দেশনা আসবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।