বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে গো-খাদ্য সংকট, বিপাকে খামারিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:০৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে গো-খাদ্য সংকট, বিপাকে খামারিরা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে শুকনো খড় পচে নষ্ট হওয়ায় উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে গবাদিপশু খাদ্যের তীব্র সংকট। কিছু স্থানে খড় পাওয়া গেলেও কিনতে হচ্ছে চড়া দাম দিয়ে। ফলে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এত চাষিদের খড়ের গাদা পানিতে ডুবে পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

খামারিরা জানান, মৌসুমি কিছু ব্যবসায়ী উঁচু অঞ্চল থেকে খড়ের গাদা কিনে আঁটি তৈরি করে বিক্রি করছেন। তারা কেনা মূল্যের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে ভুসি ও চালের গুঁড়াসহ বিভিন্ন দানাদার গো-খাদ্যের দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতি বস্তা ভুষি এক হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের গুঁড়া এক হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮২০ টাকা হয়েছে। ধানের গুঁড়া প্রতি বস্তা ৫২০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

Model Hospital

উপজেলার চান্দ্রা এলাকার রাসেল শেখ নামে খামারি বলেন, গরুর জন্য চরবসন্ত এলাকার বটতলী বাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে খড় কিনেছি। যা একটি মিনি পিকআপ ভ্যানও ঠিকমতো ভরেনি। এই সমপরিমাণ খড় গত বছরে কিনতে দুই হাজার টাকাও লাগেনি। গরু বাঁচাতে নিরুপায় হয়ে ৫ গুণ বেশি মূল্যেই খড় কিনতে হয়েছে।

বড়ালী এলাকার খামারি ইব্রাহিম বলেন, সারাবছর গো-খাদ্যর জন্য সঞ্চিত রাখা হতো শুকনো খড়। এ বছর অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে খড় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠে ধান থাকায় কাঁচা ঘাসও মিলছে না। চড়া দামে মতলব উপজেলা থেকে ১২ হাজার টাকার খড় কিনেছি। তা তিনটি গরুর ১০ দিনের খাবারও হয়নি।

আবুল কালাম নামে আরেক খামারি জানান, ভুষি ও ধানের গুঁড়োসহ দানাদার খাদ্যের দামও বেড়েছে। খড় ও দানাদার খাদ্য মিলে প্রতিটি গো-খাদ্যের পেছনে দৈনিক ২৫০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আগামী দুই মাসেও মাঠে নতুন ঘাস আসবে না, তাই বাড়তি দাম দিয়ে গো-খাদ্য কিনতে হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমন ভৌমিক বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে খামারিদের সঞ্চিত খড়ের গাদা পচে নষ্ট হওয়ায় গো- খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে দানাদার খাবারের মূল্য ন্যায্যতার বাইরে নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য বিভিন্ন বাজারের গো-খাদ্যর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। ঘাস চাষ ও বিভিন্ন উপায়ে পশু পালনের স্বার্থে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital