বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

১৩ বছর সহ্য করেছি, আর ১৩ মিনিটও অপেক্ষা নয় : আমিরে জামায়াত

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:৪৬ এম
১৩ বছর সহ্য করেছি, আর ১৩ মিনিটও অপেক্ষা নয় : আমিরে জামায়াত

ফাইল ফটো

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তো নিজ থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবি জানিয়েছিলাম। এই উদারতা আমরা দেখিয়েছিলাম। ভবিষ্যতেও এই উদারতা আমরা দেখিয়ে যাব। কিন্তু এটিএম আজহারুল ইসলাম কবে মুক্তি পাবেন, সেটি আমরা জানতে চাই সরকারের কাছে।

তিনি বলেন, আমরা তো চাইনি, কল্পনাও করিনি, এভাবে আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে আজহার ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে। আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সমাবেশ-বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।

আমিরে জামায়াতের এমন ঘোষণায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব, সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবেন। রাজনীতির মজলুম নেতৃবৃন্দকে যেভাবে একে একে মুক্তি দিয়েছেন তেমনিভাবে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলামের জীবন থেকে এক এক করে ১৩টি বছর হারিয়ে গেছে। এই ১৩টি বছর কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না। আর ১৩ মিনিটও তিনি জেলের ভেতর থাকুক আমরা তা আর চাই না।

Model Hospital

হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা ভদ্র, কিন্তু আমরা বোকা নই। আমাদের ভদ্রতাকে কেউ যেন দুর্বলতা মনে না করেন। ভদ্ররা যখন শক্ত হয় তখন কি পরিমাণ শক্ত হতে হয় তা গত সাড়ে ১৫টা বছর বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। আমি অন্যদের কথা বলবো না কে কি করেছেন, কার সাথে আপস করেছেন, আমি বলতে চাই না। মহান আল্লাহর দেওয়া শক্তির কারণে গত সাড়ে ১৫টি বছর জামায়াতে ইসলামী কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেনি। জীবন দিয়েছে আপস করেনি। বহু আপসে প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে৷ ফাঁসির কাষ্ঠে আমাদের নেতৃবৃন্দকে পাঠানোর আগে জনে জনে দফায় দফায় প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমাদের বীর নেতৃবৃন্দ সেই প্রস্তাবগুলোকে পায়ে ঠেলে ফেলে দিয়েছে, আমরা সেই বীরদের উত্তরসূরি সুতরাং আর ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। তাকে মুক্তি দিন।

দলীয় নিবন্ধনের ব্যাপারে সরকারকে হুঁশিয়ার দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, কেন আমাদের নিবন্ধন আটকে রেখেছেন? আমাদের নিবন্ধন তো জালিম সরকার কেড়ে নিয়েছিল। সেই জুলুম কি আপনারাও আমাদের উপরে করবেন? এজন্যই কি হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে? হাজার-হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে? বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো বৈষম্য বরদাস্ত করব না। সব বৈষম্যের কবর রচনা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর জীবন দিতে যেমন ভয় করেন নাই, গুলির সামনে বুক পেতে দিতেও ভয় করেন নাই, সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনের শরিক হতেও ভয় করেন নাই, একটি মানবিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ না গড়া পর্যন্ত আপনারা কি এ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? তখন সর্বস্বরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ”হ্যা” যুক্ত স্লোগান দেন।

তখন জামায়াত আমির স্লোগান ধরে বলেন, আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ আবু সাঈদ মুগ্ধ। এই যুদ্ধ চলবে ইনশাল্লাহ। মেহেরবানি করে আমাদেরকে আর কেউ চোখ রাঙ্গাবেন না। ফ্যাসিবাদের ভাষায় কেউ কথা বলবেন না। কথা বলবেন রাজনীতিবিদের ভাষায়। আমরা অভিনন্দন জানাব। কিন্তু মেহেরবানি করে চোখ রাঙাবেন না। এই সংগঠন কারো চোখ রাঙ্গানি পরোয়া করে না।

তিনি বলেন, অতীতেও দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল। ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রের পরেও সেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। তবে সব ষড়যন্ত্র একে একে নস্যাৎ করে দিয়েছেন আল্লাহ। আমরা আশাবাদী আগামীতেও সব ষড়যন্ত্র আল্লাহ ব্যর্থ করে দেবেন ইনশাআল্লাহ। আমরা সব ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।