শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লাঠিতে ভর ও দড়ি বেয়ে মসজিদে যান ১১৬ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫, ৮:৫০ পিএম
লাঠিতে ভর ও দড়ি বেয়ে মসজিদে যান ১১৬ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন

প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ পাকা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা পথচারী বা যানবাহনে চলাচলকারী যাত্রীদের হঠাৎ দাড়িয়ে দুচোঁখ মেলে দেখতে হবে, অন্ধ মুয়াজ্জিন মো. আব্দুর রহমান মোল্লার বাঁশ ও দড়ি বেয়ে রাস্তাপারাপার ও মসজিদে প্রবেশের দৃশ্য। ১১৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত যাচ্ছেন দড়ি ধরে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে মো. আব্দুর রহমান মোল্লার বাড়ি। চোঁখের দৃষ্টি শক্তি না থাকলেও মনের দৃষ্টি কমেনি তাঁর। অন্ধ মুয়াজ্জিনের এমন মহৎ কার্যক্রমে খুশি পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। পবিত্র রমজানেও প্রতিদিন সময় মত সেহরি খেয়ে রোজা রাখেন।

স্থানীয়রা জানায়, ‘২১ বছর ধরে আব্দুর রহমান অন্ধ। পরিবারে রয়েছে দুই স্ত্রী ও ২৫ জন ছেলে-মেয়ে। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। বর্তমানে ১০ জন মেয়ে ও ৯ জন ছেলে ও দুই স্ত্রী বেঁচে আছেন। অন্ধ হওয়ার পরে বড় ছেলেকে নিয়ে ২০১১ সালে পবিত্র হজ পালন করেছেন তিনি। হজ করে আসার পর নিজ এলাকা বড়দেহা গ্রামে নিজের পাঁচ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন একটি পাকা মসজিদ। মসজিদের নামেই তিনি জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। গ্রামের মানুষ ও ছেলে-নাতীদের নিয়ে ২০১১ সাল থেকেই নিজের স্থাপন করা মসজিদে নামাজ আদায় শুরু করেন। সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবেও তিনি বিনাপারিশ্রমিকে দায়িত্ব পালন করছেন।

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে আলহাজ মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল বলেন, ‘২১ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় বাবা অন্ধ হয়ে যায়। বাবার পরামর্শ অনুযায়ী বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি টেনে দেওয়া হয়। প্রথমে প্রায় ১৫ দিন ছেলে ও নাতিরা বাঁশ ও দড়ি দেখিয়ে দিয়ে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। যাতায়াত ও রাস্তাপারাপার হওয়ার বিষয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

Model Hospital

ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার বয়স চলছে ১১৬ বছর। এই বয়সে এসেও অন্ধ হয়ে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আযান দেন। নামাজ আদায় করেন।’

নাতী মো. নাইম হোসাইন জানান, দাদার এমন মহতী কাজে উৎসাহী হয়ে সে নিজেও এখন মসজিদে যাওয়া শুরু করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এখন নামাজে সময় দিচ্ছে।

মো. আব্দুর রহমান মোল্লা জানান, মহান আল্লাহ পাক তাকে এখনও অনেক সুস্থ্য স্বাভাবিক রেখেছেন। কেটে গেছে ১১৬ বছর বয়স। দুর্ঘটনায় অন্ধ হয়ে গিয়েও তিনি নিজের মনোবল শক্ত রেখেছেন। নিজের স্থাপন করা মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নাটোরের খামারনাচকৈড় হাফেজিয়া মাদরাসার মুফতি হাফেজ মাওলানা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আজান দিতেন। আর তিনি ছিলেন অন্ধ। আব্দুর রহমান মোল্লা ১১৬ বছর বয়সে এসেও ইসলামের পথে যে মহতি কাজ করছে তার প্রতি মহান আল্লাহ পাক অবশ্যই সদয় হবেন। তার মনোবল অনেক দৃঢ়।’

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital