বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির মায়াজাল 

অনলাইন জুয়া ও মোবাইল গেমসের আসক্তি

ফয়েজ আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫, ৮:০১ পিএম
অনলাইন জুয়া ও মোবাইল গেমসের আসক্তি
ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় মোবাইল-ভিত্তিক অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতা বেড়েছে। তবে এর নেতিবাচক দিকও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিশেষ করে অনলাইন জুয়া ও আসক্তিমূলক গেমসের মাধ্যমে যুবসমাজ ও কিশোরদের নিঃস্ব হওয়ার প্রবণতা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই নতুন ধরণের আসক্তি। এতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
অনলাইন জুয়ার বিস্তার ও কিশোরদের আসক্তির কারণঃ 
সহজলভ্যতা ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন- সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন সহজেই মানুষের নজরে আসে। মোবাইল গেমের মধ্যেও নানা ধরনের ইন-অ্যাপ পারচেজের মাধ্যমে কিশোরদের আকৃষ্ট করা হয়।
প্রলোভন ও লোভ– বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের ফাঁদে ফেলা হয়। অনেকেই দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্নে এই জুয়ার জালে আটকে পড়েন।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব– বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে এসব গেম ও জুয়ার প্রচার করা হয়, যা তরুণদের মধ্যে সহজেই জনপ্রিয়তা পায়।
বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট– কাজের অভাবে অনেক যুবক সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ায় জড়াচ্ছে, যা তাদের আর্থিকভাবে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
পরিবারের নজরদারির অভাব- ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ডিজিটাল কার্যক্রমের দিকে নজর দিতে পারছেন না, ফলে তারা সহজেই এই আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে।
এ আসক্তির পরিণতি ও ঝুঁকিঃ- আর্থিক ক্ষতি: অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে দেন এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েন।
মানসিক সমস্যা: হতাশা, উদ্বেগ, রাগ নিয়ন্ত্রণের অভাবসহ নানা মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক কলহ: আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক অস্থিরতার কারণে পারিবারিক অশান্তি বাড়ে।
অপরাধ প্রবণতা: টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই বা মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
সমাধান ও প্রতিরোধে করণীয়ঃ- *পরিবারের ভূমিকা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ: সন্তানরা অনলাইনে কী করছে, কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। তাদের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা দরকার।
বিকল্প বিনোদন ব্যবস্থা: সন্তানদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও অন্যান্য গঠনমূলক কাজে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
ডিজিটাল লিমিট সেট করা: মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করা এবং গেমিং ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি নির্ভরতা কমানো।
*সমাজের ভূমিকাঃ- সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল-কলেজে অনলাইন জুয়া ও গেম আসক্তির ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা উচিত। স্থানীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো দরকার।
যুব উন্নয়ন কর্মসূচি: তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো দরকার, যাতে তারা অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালু করা যেতে পারে।
*রাষ্ট্রের ভূমিকাঃ 
কঠোর আইনি ব্যবস্থা: দেশে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বেআইনি গেমিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্লক করার জন্য প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে হবে।
নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে-তে অনলাইন জুয়া সম্পর্কিত অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। ভুয়া লোভনীয় বিজ্ঞাপন প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনলাইন জুয়া ও গেমসের আসক্তি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সচেতনতা ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আসক্তির লাগাম টেনে ধরা গেলে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
লেখকঃ গণমাধ্যম, মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital