বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, ৬:০১ পিএম
মতলব উত্তরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মনিরুল ইসলাম মনির মতলব উত্তর উপজেলার সাহাবাজকান্দি গ্রামে জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি পরিবারকে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই পরিবারটি।
২৪ মার্চ সোমবার সকালে সাহাবাজকান্দি গ্রামের মিয়াজি বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ শামীম মিয়াজী।
বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর পূর্বে, গরিব হিসেবে আমি সালেহা বেগম (৭০ বছর বয়সী) নামের এই মহিলাকে আশ্রয় ও থাকার জন্য একটি ঘর প্রদান করেছিলাম।
এরপর, তার সন্তানদের কাছ থেকে সাফকবলা করে বাড়ি ক্রয় করেছিলাম, কিন্তু তারা আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়। দরিদ্র হিসেবে আশ্রয় প্রদানের পর যখন আমার জায়গার প্রয়োজন হয়ে তাদেরকে চলে যেতে বললাম, তখন থেকেই তারা আমাদের উপর বিভিন্ন অত্যাচার চালায়-গাছ কেটে ফেলা, ঝগড়া-যাটি করা ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা। ফলে, তাদের বিরুদ্ধে আমি সাত (৭) ধারা মামলা দায়ের করি।
এরপর, তাদের বাড়ির কিছু অসাধু ব্যক্তির (যেমন, ইয়াসিন আরাফাত, মহসিন মিয়াজী, শাহ আলম মিয়াজী এবং খসরু সরকারের সহযোগিতায়) দ্বারা আমার নামে (শামিম মিয়াজী) এবং আমার মায়ের নামে (হাজেরা বেগম) মিথ্যা হত্যা মামলার দায়ের করা হয়।
মামলায় আমার মাকে প্রমাণহীনভাবে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ঐ রাতেই আমার বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনায় আমি গভীর কষ্ট ভোগ করি।
আমি এলাকার বাসিন্দা ও প্রশাসনের কাছে সুবিচারের আবেদন জানাচ্ছি। আমার জায়গা থেকে এই বৃদ্ধ মহিলাকে চলে যেতে হবে, কারণ আমি “খাল কেটে কুমির এনেছি” উদাহরণস্বরূপ, সিলেটের কানাইগাটে মুনতাহা নামে এক শিশুকে প্রান দিতে হয়েছে। এদের মতো গরীব বিখারিদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে এখন আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, এবং এই বিখারিরা (ছালেয়া বেগম গং) আমাদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে।
এমন অবস্থায়, আমি আমার পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতেও ভয় পাই। আমি এই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই এবং আমার জায়গা বুঝে পেতে চাই।
এদিকে ভিক্ষুক বৃদ্ধা সালেহা বেগমের বাড়ির লোকজন জানান, আমরা ছোট বেলা থেকেই দেখছি সালেহা বেগম তার এই জায়গায় বসবাস করেন আসছেন। এবং তিনি যে আগুনের বিষয় কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের ঘরে তারা নিজেরাই আগুন দিয়েছে, আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’