খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাবের সম্পাদক তাফাজ্জলের স্মরণে শোকসভা
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজসেবক তাফাজ্জল হোসেনের (৬৮) মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাদ আসর, ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাব প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সফিকুর রহমান মিজি এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান হোসেন।

শোকসভায় মরহুমের স্মৃতিচারণ করেন লতিফগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নূরে আলম, খাজুরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক সরোয়ার আলম, নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির, খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাবের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিজি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম মানিক, আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক পারভেজ মোশারফ, মরহুমের বড় ভাই সিরাজ পাল এবং বড় ছেলে মোশারফ হোসেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে বক্তারা বলেন, তাফাজ্জল হোসেন ছিলেন একজন আদর্শবান শিক্ষক, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তিনি দীর্ঘদিন খাজুরিয়া ইয়থ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সততা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল অনন্য। ছাত্রদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে একজন শ্রদ্ধাভাজন মানুষে পরিণত করে।

সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা ছিল তথ্যনির্ভর, বস্তুনিষ্ঠ ও জনমুখী। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগ ও সম্ভাবনা তুলে ধরতেন, যা জনমত গঠনে ভূমিকা রাখত। এছাড়াও তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন।
তাফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সবশেষ ২৮ মার্চ (শুক্রবার) সকালে তিনি রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শোকসভা শেষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাজহারুল ইসলাম বাবু। এতে অংশ নেন স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের মানুষ।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তাফাজ্জল হোসেন ছিলেন বহুগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। তাঁর চলে যাওয়া ফরিদগঞ্জের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।







