বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে বলাৎকারের ঘটনায় সালিশে জুতাপেটা, নাকে খত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:০৩ পিএম
হাজীগঞ্জে বলাৎকারের ঘটনায় সালিশে জুতাপেটা, নাকে খত

প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১০ বছর বয়সি শিশুকে বলাৎকারের শাস্তি হিসেবে নাকে খত ও জুতাপেটা দেওয়া হয়েছে এক যুবককে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এমন অসামাজিক কাজ করবে না বলে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় (৫ এপ্রিল) সংবাদকর্মীদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলাৎকারের শিকার শিশুটির বাবা।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামে সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তকে এ শাস্তি দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আলামিন ওই গ্রামের ছোয়ানি বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি ওই এলাকার চার রাস্তা মোড়ের আল আমিন এন্টার প্রাইজের (মুদি ও কনফেকশনারী) সত্ত্বাধীকারী।

শিশুটির বাবা জানান, গত ২৮ রমজান ও ২৯ মার্চ শনিবার সকালে আল আমিন এন্টারপ্রাইজে যায় তার ছেলে। এসময় ছেলেটিকে দোকানের পিছনে নিয়ে বলাৎকার করেন আল আমিন। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে বিষয়টি জানালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বলাৎকারের ঘটনাটি জানান তার বাবা। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়।

Model Hospital

পরবর্তীতে গত ১ মার্চ, মঙ্গলবার ওই গ্রামের পাশবর্তী গ্রামের আহম্মদপুরের একটি মুদি দোকানে সাড়ে ৬ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে বলাৎকারের ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর আল আমিন তার দোকান বন্ধ করে স-পরিবারে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে আল আমিন এন্টারপ্রাইজ ও তার বসতঘরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শিশুটির বাবা আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে এলাকায় সালিশি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আল আমিনকে শাস্তি দেওয়ার কারণে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে তিনি মামলা করেন নি।

কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ১’শ গজ নাকে খত ও ২’শ জুতাপেটা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন অসামাজিক কাজ করবে না বলে এলাকাবাসীর কাছে মুচলেকা দেয় আল আমিন।

এদিকে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত আল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার নামে মিথ্যা কথা রটিয়েছে। আমি পালিয়ে যাইনি, শশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কেউ আমাকে জানায়নি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, বিষয়টি কেউ আমাদেরকে জানায়নি এবং এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।