বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নেশার ছোবলে তরুণের স্ট্রোক, ২৫ বছর বয়সেই জীবনের মোড় ঘুরে গেলো

ডাঃ মোহাম্মদ মুহিবুল আলম রুবেল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৫:১৫ পিএম
নেশার ছোবলে তরুণের স্ট্রোক, ২৫ বছর বয়সেই জীবনের মোড় ঘুরে গেলো

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের এক ২৫ বছর বয়সী তরুণ অটোরিকশা চালক। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা নিয়ে হাজির হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বোঝা গেলো, তিনি চোখের ডান পাশের নিচের অংশে একেবারেই দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসাশাস্ত্রে একে বলা হয় Lower quadrantanopia।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিলো এটি মস্তিষ্কে টিউমারের কারণে হতে পারে। তবে সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা বিস্মিত হন এটি আসলে স্ট্রোক। মস্তিষ্কের যে অংশ চোখের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

কেন হলো এত অল্প বয়সে স্ট্রোক?

সাধারণত স্ট্রোকের পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস থাকে। কিন্তু এ তরুণের কোনোটিই নেই। সব খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে বেরিয়ে আসে আসল কারণ ইয়াবা সেবন। রোগীর মা জানান, ছেলে প্রায় তিন বছর ধরে ইয়াবার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তরুণ নিজেও তা স্বীকার করে নেয়।

Model Hospital

চেহারায় স্মার্টনেস, কথায় ভদ্রতা দেখে কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় যে, তিনি ভয়াবহ মাদকের ফাঁদে বন্দি। অথচ এখন স্ত্রী, এক বছরের সন্তান আর পরিবার নিয়ে তার জীবন অনিশ্চয়তায় ভরা।

চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবা বা কোকেইন শুধু মস্তিষ্ক নয়, পুরো শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তনালীতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে; অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, দেখা দেয় বিষণ্নতা ও হ্যালুসিনেশন। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে অকাল মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

হাজীগঞ্জসহ আশপাশের গ্রামে এখন প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় ইয়াবার ভয়াবহ ছাপ। ভালো পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও কখনো হতাশায়, কখনো বন্ধুর পাল্লায় পড়ে এ নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে। সমাজের প্রতিটি পরিবার আজ ঝুঁকির মুখে।

করণীয় কী?

পরিবার থেকে শুরু করতে হবে নজরদারি, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, সময় কাটাচ্ছে কিভাবে- এতে খেয়াল রাখতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সর্বোপরি, আপনি যদি প্রতিবাদ না করেন, আগামীকাল আপনার সন্তানও এ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

উপসংহার ; ছেলেটার মায়ের কান্না এখনো চোখে ভাসে, “আমার ছেলের, আমার নাতির ভবিষ্যত কী হবে?”
প্রশ্নটা শুধু ওই পরিবারের নয়, আমাদের সবার।

ডাঃ মোহাম্মদ মুহিবুল আলম রুবেল
মেডিসিন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ
মবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন)
এমসিপিএস (মেডিসিন), এমআরসিপি (লন্ডন)- পেইসেস
এমএসিপি (আমেরিকা), সিসিডি (বারডেম)
জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ডায়াবেটোলজিষ্ট

হাজীগঞ্জে নিউ মেডিনোভা ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার
শেখ সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর ( ৪র্থ তলা) , হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital