বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়া’র মানবিক অনুদান, অসহায় পাঁচ পরিবার পেল চিকিৎসা সহায়তা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৭ পিএম
মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়া’র মানবিক অনুদান, অসহায় পাঁচ পরিবার পেল চিকিৎসা সহায়তা
পৌরসভার “সুয়াপাড়া মসজিদ উল মতিন”-এর উপদেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়া অসহায়দের চিকিৎসা সহায়তা বাবদ অনুদান প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমে যুক্ত হন।
শাহরাস্তি প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট পাঁচজন সুবিধাভোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
তারা হলেন পাথৈর গ্রামের হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু নুসাইবা (৫),মৃত হাবিবুল্লাহর পুত্র ও টামটা ইউনিয়নের অসুস্থ মো. শাখাওয়াত হোসেন (৩৫),পৌরসভার রিয়াদ হোসেনের স্ত্রী মিলি আক্তার (১৯) একসাথে জন্ম নেওয়া তিন নবজাতকের দুধ কেনার জন্য, পৌর শহরের শাহীন আক্তার (৫৫), অসুস্থতার চিকিৎসায়,মেহের দক্ষিণের প্রবীণ খোরশেদ (৭৫), চিকিৎসা সহায়তায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়া বলেন “মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যে অঙ্গীকার করেছিলাম তা হলো মানুষকে ভালোবাসা ও সেবা করা। আজও সেই আদর্শে আমি সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকি মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।”
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরো বলেন “শাহরাস্তির তিন নারী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে আমি এখনো বেঁচে আছি। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পিতা ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেই। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. মালেকের ক্যাম্পে রান্না ও খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করি। পরে মেজর হায়দারের নির্দেশে ডা. বদরুন নাহারের অধীনে সেবিকা হিসেবে যোগ দিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত থাকি।”
যুদ্ধশেষে জান্নাতুল মাওয়া শিক্ষকতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২২ বছর কাস্টমস ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধের দলিলাদি সংগ্রহের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
সুয়াপাড়া মসজিদ উল মতিন ছাড়াও তিনি বশির উল্লাহ মেডিকেল হাসপাতাল ও শাহরাস্তি জোবেদা মতিন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর উপদেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ মোঃ মাসুদ রানা ও মাহবুব হাসান বাবলু মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়ার উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন “তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতার পরও সমাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্ম তার জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হবে।”

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital