বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপদ মাতৃত্বে অনন্য দৃষ্টান্ত

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেকর্ড! এক মাসে ৫০টি নরমাল ডেলিভারি

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২২ পিএম
কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেকর্ড! এক মাসে ৫০টি নরমাল ডেলিভারি

সম্প্রতি মানসম্মত সেবার নজির গড়লো চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, গত সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড সংখ্যক ৫০ জন মা নিরাপদ নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এছাড়াও সিজার অপারেশান হয়েছে ৮জন মায়ের। এর আগে আগস্ট মাসে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা ছিল ৪৩জন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে মাতৃস্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আস্থার ফলেই নরমাল ডেলিভারির এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফ ও নার্সরা জানান, বর্তমানে অধিকাংশ মা হাসপাতালেই নরমাল ডেলিভারির জন্য আসছেন, যা গ্রামীণ এলাকায় অদক্ষ ধাত্রী দ্বারা বাড়িতে ডেলিভারি করানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।

সরকারী হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্তা বাড়ার ফলে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়ছে। সাধারন মানুষের ধারনা, হাসপাতাল মানেই সিজারিয়ান অপারেশান। এই ধারনা পাল্টে দিয়েছে কচুয়া সরকারী হাসপাতাল।

Model Hospital

নরমাল ডেলিভারির এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সাধারন মানুষ আর বে-সরকারী হাসপাতালমুখি হবেনা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা লিমা আক্তার বলেন, “এখানকার ডাক্তার ও নার্সরা খুব যত্ন নেন। আমার সন্তানকে আমি স্বাভাবিকভাবে জন্ম দিতে পেরেছি, এজন্য আমি খুব-খুশি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন (গাইনী এন্ড অবঃ) ডাঃ অনিতা রাণী দেবনাথ বলেন, প্রসবোত্তর সময়ে প্রতিটি মা ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় ঔষধ, পুষ্টি ও পরামর্শ এবং প্রসবোত্তর সেবা প্রদান করা হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতামূলক পরামর্শ ও দক্ষ চিকিৎসক নার্সদের আন্তরিক সেবার কারণে নরমাল ডেলিভারির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রবণতা কমে এসেছে এবং স্বাভাবিক প্রসবে আগ্রহী হচ্ছেন মায়েরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, এ সাফল্য প্রমাণ করে যে, জনগণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা রাখছেন। আমরা আগামী দিনে আরও উন্নত সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রেকর্ড সংখ্যক নরমাল ডেলিভারি আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখে এবং আমাদের এক বড় অর্জন।

তিনি আরও জানান, এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুহার আরও কমবে এবং “নিরাপদ মাতৃত্ব” বাস্তবায়নে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। “আমরা চাই প্রতিটি মা যেন নিরাপদ ও স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান জন্ম দেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।