বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বাড়ির রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে প্রবাসী আহত, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে বাড়ির রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে প্রবাসী আহত, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
শাহরাস্তিতে বাড়ির রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ওমান প্রবাসী মোঃ মানিক হোসেন (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে এবং তার স্বর্ণের আংটি ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। ওই কান্ডে প্রবাসীর স্ত্রী মমতাজ বেগম ৪ জনকে আসামি করে শাহরাস্তি মডেল থানায় প্রথমে লিখিত অভিযোগ পরে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির  রাঢ়া রাজাপুরা গ্রামের মৃত নুরুল হকের পুত্র  ওমান প্রবাসী মানিক হোসেনের সঙ্গে একই বাড়ির তাজুল ইসলাম, লিটন, মাছুম ও রাজু দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন। বিবাদীরা বাড়ির চলাচলের পথে পিলার স্থাপন করে বাধা সৃষ্টি করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।ওই হিসেবে
গত ১২ অক্টোবর রাতে স্থানীয় সালিশে বৈঠকে  বিবাদীরা মানিক হোসেনের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ১৪ অক্টোবর সকালে আবারও তারা পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে মানিকের মাথা, কাঁধ ও হাতে গুরুতর জখম হয় এবং তার কানের নিচে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
হামলাকারীরা তার আংটি ও ফোন ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে  ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই বিবাদীরা চলে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মানিককে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় আহত মানিকের স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় তাজুল ইসলাম (৫০), মোঃ লিটন (৪০), মোঃ মাছুম (৩৫) ও মোঃ রাজু (২২) কে আসামি করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করে, যার নং১১ তারিখ ১৪/১০/২৫ দায়ের করেছেন।
ওই কান্ডে  ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর রাঢ়া রাজাপুরা গ্রামে মানববন্ধন করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ওদৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উল্লাহ জানান, “মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে, স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে, তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।