বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই আনসার সদস্য গ্রেপ্তার

হাসপাতালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে ধর্ষণের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
হাসপাতালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে ধর্ষণের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল সদর হাসপাতালে নাইট ডিউটি চলাকালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাতের এ ঘটনার পর আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় তারা সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দম্পতিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় স্বামীকে বসিয়ে রেখে দ্বিতীয় তলায় ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য পালাক্রমে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

Model Hospital

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে স্বামীকে পুরো ঘটনা জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনলে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই সদস্যকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের সহকারী কমান্ডার অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তরা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে রাতেই আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী যেন যথাযথ চিকিৎসা পান, সে বিষয়টি তদারক করতেই তিনি হাসপাতালে এসেছেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সদর থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশের নির্দেশে তার মেডিকেল পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।