বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আঁধার রাতে শাহরাস্তির কৃষি জমির টপ সয়েল লুট, হারাচ্ছে উর্বরতা

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
আঁধার রাতে শাহরাস্তির কৃষি জমির টপ সয়েল লুট, হারাচ্ছে উর্বরতা
শাহরাস্তিতে রাতের আঁধারে কৃষি জমির উর্বর টপ সয়েল কাটার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রশাসনের অভিযান চললেও মাটি ব্যবসায়ীরা কৌশলে তা এড়িয়ে চলে। এতে উপজেলার কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন কখন মাঠে নামবে তা আগাম জানতে মাটি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সড়ক ও বাজারে নিজস্ব লোক মোতায়েন করে রাখে। ফলে অভিযান পরিচালিত হওয়ার আগেই অধিকাংশ মাটি কাটার শ্রমিক ও ভেকু সরিয়ে ফেলা হয়।
উপজেলায় প্রায় ২৫টি ইট-ভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার অধিকাংশ ইট তৈরির মাটি আসে কৃষি জমি থেকেই। কোথাও কোথাও জমির ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত গভীর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে ফলন।
চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের স্বেতি নারায়নপুর মাঠ, পাথৈর মাঠ, সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের সূচীপাড়া মাঠ, চাঁদপুর মাঠ, বড়ুয়া মাঠ, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন, রায়শ্রী দক্ষিণ, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন, পৌরসভার নোয়াঁগাও ও ছিখুটিয়া ব্রিজসংলগ্ন মাঠসহ অন্তত ১০ ইউনিয়নে রাতভর মাটি কাটার চিত্র নিয়মিত দেখা যায়।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তিতে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর কৃষি আবাদি জমি রয়েছে। এর বড় অংশের টপ সয়েল কাটায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক কৃষক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টাকার লোভে জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন।
কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মাটি কাটার কারণে জমিতে আগের মতো ফসল ফলছে না।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, “টপ সয়েল কাটার ঘটনায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ভেকুর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সবাইকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে বলা হচ্ছে। কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দায়িত্বশীলদের কঠোর নজরদারি না বাড়ালে শাহরাস্তির উর্বর কৃষিজমি কতদিন টিকে থাকবে?

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।