রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে গুপ্টি ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লার গনসংযোগ ও পথসভায়

দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি : মাও: বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি : মাও: বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা মার্কার গনসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী।

ফরিদগঞ্জের মানুষ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি চায় না বলে মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী।

বৃহস্প্রতিবার ০৫ জানুয়ারী সকাল থেকে গনসংযোগ ও ৬নং গুপ্টি ইউনিয়ন লাউতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাওলানা বিল্লাল মিয়াজী বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকারের সময় দুর্নীতি কমেনি। এখন আমরা যাদের সঙ্গে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আমরা যদি দেশকে আবার দুর্নীতি, নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চাই, তাহলে তাদের ভোট দিতে হবে। আর যদি একটি নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ চাই, তাহলে দুর্নীতি–নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ১১-দলীয় জোটকে ভোট দেবেন। জামায়াতে ইসলামী হত্যা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি চায় না।’

নতুন দেশ গড়তে মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরের ব্যর্থতার রাজনীতির ইতিহাসের পর জীবনের বিনিময়ে মানুষের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে পরিবর্তনের জন্য। তারই একটি প্রতিফলন হচ্ছে, আজকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ পরিবর্তনের পক্ষে মানুষের গণজোয়ার এবং ঢেউ।’

Model Hospital

তিনি আরো বলেন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দেশে নৈরাজ্য চায় না। আমরা হত্যা ও লুটের রাজনীতি চাই না। আমরা জনগণের হানাহানির রাজনীতি চাই না। আমরা অধিকারহীনতার রাজনীতি চাই না। ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যের রাজনীতির কোনোটাই আমরা চাই না। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা চাই শান্তির রাজনীতি। আমরা ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি বন্ধ করব। এটা আমাদের কথার কথা না, এটা আমাদের পরীক্ষিত সত্য। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ৪৪ জন মন্ত্রী ছিলেন, এর মধ্যে জামায়াতের দুজন ছিলেন। সেই সময়ে এই দুজনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া পায়নি।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আঃ মান্নান খাঁন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো: ইউনুস হেলাল, চাঁদপুর শহর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, জামিরুল ইসলাম বি এস সি সহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এসময় জামায়াত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে পথসভা ও মিছিল করেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।