বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে দালাল দেখলেই ব্যবস্থা : ডিসি নাজমুল ইসলাম

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে দালাল দেখলেই ব্যবস্থা : ডিসি নাজমুল ইসলাম

চাঁদপুরে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার।

চাঁদপুরে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের আয়োজনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, পাসপোর্ট অফিসের সামনে কিছু অসাধু দোকান রয়েছে যারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষকে ভুলভাল বুঝিয়ে আবেদন করার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। এ ধরনের প্রতারণা ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের অবশ্যই বৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ভিসা যাচাই ছাড়া কোনো প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Model Hospital

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চাঁদপুরের মানুষ যেন নিরাপদ ও বৈধভাবে বিদেশে যেতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বিদেশগামী কর্মীদের সঠিক তথ্য ও সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের সেবায় জেলা প্রশাসন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)- মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লুৎফর রহমান, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মোঃ জহিরুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: রফিকুল হাসান ফয়সল, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক- মুহাম্মদ সাফায়েত হোসেন, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক- মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, সিসিডিএ’র জেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এ কে এম মাহতাব উদ্দিন, চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম, ডিএমও প্রতিনিধি- মো: মনিরুজ্জামান এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিনিধি হারিছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় বৈধ অভিবাসন উৎসাহিতকরণ, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ভিসা যাচাই এবং প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।