শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

শাহতলীতে ঐতিহ্যবাহী রুশদী বাড়িতে পারিবারিক মিলন মেলা ও সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
শাহতলীতে ঐতিহ্যবাহী রুশদী বাড়িতে পারিবারিক মিলন মেলা ও সংবর্ধনা

শাহতলীতে ঐতিহ্যবাহী রুশদী বাড়িতে পারিবারিক মিলন মেলা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রুশদী বাড়ির পক্ষ থেকে প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বড় শাহতলীতে ঈদ পরবতী ঐতিহ্যবাহী রুশদী বাড়ি ও মুন্সী বাড়ীর যীেথভাবে পারিবারিক মিলন মেলা-২০২৬ ও  চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীকে বাড়ীর পক্ষ থেকে  সংবর্ধনা আয়োজন হয়েছে।
২৪মার্চ (মঙ্গলবার) বাদ জোহর সদর উপজেলার শাহতলী রুশদী বাড়ীতে বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: নুরুজ্জামান মুন্সির পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রুশদী বাড়ির কৃতি সন্তান চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, রুশদী বাড়ির উদ্যোগে আজকের পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মরহুম আব্দুর কাদের মুন্সি, মরহুম আব্দুর জব্বার মুন্সি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেবসহ বাড়ীর  নিহত পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। রুশদী বাড়ি, মুন্সি বাড়ি এ এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার। আজকের অনুষ্ঠানটির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। বাড়ীর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।আগামী প্রজন্ম বাড়ীর এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হবে।প্রতিটি সদস্যের এটা দায়িত্ব।এমন কোন আচারণ করা যাবে না,যাতে বাড়ীর সুনাম ক্ষুন্ন হয়।
এ বাড়ির কৃতি সন্তান ছিলেন আমার দাদা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ  মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী। যিনি শিক্ষায় অবদান রাখায় তৎকালীন বৃটিশসরকার থেকে তাকে রুশদী উপাধীতে ভূষিত হয়েছেন। তিনি এ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছেন। আমাদের বাড়ির অধিকাংশ আজকের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যারা বাহিরে আছেন তারাও সংহতি প্রকাশ করেছেন,সমর্থন জানিয়েছেন। মিলনমেলা হয়েছে আজকের অনুষ্ঠান।
তিনি বলেন,শতবছর পর রুশদী বাড়ী ও মুন্সির বাড়ীর যীেথ ভাবে পারিবারিক মিলনমেলা একটা ভালো উদ্যোগ। ইদ পরবর্তী মিলন মেলা হচ্ছে এটা ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবছর পালন করা হবে। আগামীতে মিলন মেলাকে আরো সুন্দর করা হবে। কিভাবে আরো সুন্দর করা যায তা আমি করবো।
তিনি বলেন,আমি এবছর ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি।আপনাদের দোয়ায়। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব  বাংলাদেশের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেস ক্লাব।সারাদেশে একটা সুনাম রয়েছে।  প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।সাংবাদিকদের কল্যানে,মানবতার কল্যানে কাজ করছে চাঁদপুর প্রেসক্লাব।
তিনি আরো বলেন, এ বাড়ির কোন বিষয়ে সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন, আমি সেটা সমাধানের চেস্টা করবো। এ বাড়িকে কিভাবে আরো সুন্দর করা যায়, আমাকে জানাবেন। কোন সমস্যা হলে নিজেরা বসে সমাধান করবো।এ অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর করবো।
মিলনমেলায় আরো বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান মুন্সি, সহকারি শিক্ষক (অব:) রায়হানা আক্তার সুরমা, মেডিকেল শিক্ষার্থী (ফাইনাল ইয়ার) অন্যন্যা আক্তার।
অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন, জনতা ব্যাংকের (অব:) প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুর কাদের হাজরা, সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মুন্সি, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সহধর্মিণী শারমিন আক্তার বৈশাখী  , সেনা সদস্য (অব:) শাহাআলম মুন্সি, সমাজসেবক নুর মোহাম্মদ মুন্সি, মো: মানিক মুন্সি, শামসুল হুদা, মাহফুজ মুন্সি, মাসুদ মুন্সি, মাসুম মুন্সি, হাসান মুন্সি, খোরশেদ মুন্সি, জাকিয়া বেগম, সেলিনা বেগম, পরান মুন্সিসহ মুন্সিবাড়ির সদস্যবৃন্দ।
শুরুতেই রুশদী বাড়ির সদস্যদের পক্ষ থেকে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ আদনান মুন্সি।

হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ফেল ৭২০ জন, উপজেলায় পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ফেল ৭২০ জন, উপজেলায় পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ১ হাজার ২৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৭২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৭ জন। এমন ফলাফলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ২০৩ জন। সে হিসাবে উপজেলায় পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ।

গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে হাজীগঞ্জে পাসের হার ছিল ৯৭.১২ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৭.৯৭ শতাংশে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৭.৮৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা আরও কমে হয় ৫৭.৩০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৬ সালে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৪.৩৪ শতাংশে।

উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৭৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪০৯ জন। পাসের হার ৫৩.৩৯ শতাংশ। এ ছাড়া এ কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

Model Hospital

কাকৈরতলা জনতা কলেজ থেকে ১০৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫৫ জন। পাসের হার ৫২.৮৮ শতাংশ। দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজ থেকে ১১১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫৮ জন। পাসের হার ৫২.২৫ শতাংশ।

হাজীগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ অব এডুকেশন থেকে ৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন। পাসের হার ৪৮.৩৮ শতাংশ।

বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে ৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১২.৭৯ শতাংশ, যা উপজেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন।

নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ থেকে ১২৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০ জন। পাসের হার ২৩.৪৪ শতাংশ। হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০ জন। পাসের হার ৩০.৬১ শতাংশ।

এ ছাড়া ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১১২ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৮ জন। পাসের হার ৩৩.৯৩ শতাংশ।

সার্বিকভাবে হাজীগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার টানা চার বছর ধরে কমছে। বিশেষ করে হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ৭২০ জন শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র সাতটিতে সীমাবদ্ধ থাকা ফলাফল নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।