এক বছরেও উন্মোচিত হয়নি মমতাজ বেগম হত্যার রহস্য, কচুয়াজুড়ে ক্ষোভ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১১নং গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ জুন বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বসতঘরের বাথরুমের পেছনের বারান্দা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মমতাজ বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর ঘর থেকে নগদ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা, একটি ব্রিকফিল্ড ও জমিজমার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আগের সংবাদটি পড়ুন … কচুয়ায় বসতঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হ ত্যা

নিহতের স্বজনদের দাবি, মূলত মমতাজ বেগমের ছেলে সোহেল হোসেনকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। তাকে না পেয়ে মমতাজ বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

নিহতের ভাই এনায়েত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “আমার বোনকে রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। থানায় মামলা করার পরও এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো কূলকিনারা হয়নি। আসামি তো দূরের কথা, তদন্তের অগ্রগতির কোনো তথ্যও আমরা পাচ্ছি না। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের খোকন প্রধান বলেন, “এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পার হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আমরা গ্রামবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
আগের সংবাদটি পড়ুন … কচুয়ায় মমতাজ বেগম হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেফতার
প্রতিবেশী এমরান হোসেন বলেন, “মামলার এক বছর হতে চললেও পুলিশের কার্যকর কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না। থানা কিংবা পিবিআই কার্যালয়ে গেলে শুধু বলা হয় তদন্ত চলছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
নিহতের ছেলে সোহেল হোসেন বলেন, “প্রায় এক বছর হয়ে গেল, এখনো জানতে পারলাম না কারা আমার মাকে হত্যা করেছে। বারবার থানায় গিয়েছি, কিন্তু কোনো আশ্বাসও পাইনি। আমার মায়ের হত্যার বিচার কি কখনো হবে না?”
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম আট মাস কচুয়া থানা পুলিশ ও চাঁদপুর ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরে হস্তান্তর করা হয়। গত চার মাস ধরে পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই চাঁদপুরের ইনচার্জ মো. শাহজাহান কবির বলেন, “মমতাজ বেগম হত্যা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও ফলাফল পাওয়া যাবে।”
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, “মামলাটির তদন্ত বর্তমানে পিবিআই করছে।”





