বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নোয়াখালীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: কার্যালয়ে আগুন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:১৯ এম
নোয়াখালীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: কার্যালয়ে আগুন

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের জের ধরে নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল চারটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে এই রণক্ষেত্র তৈরি হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অফিস ঘর এবং বিএনপি কর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের বাড়ি এবং ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

এই উপদলীয় ও রাজনৈতিক সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিম এবং নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শ্রমিক দলনেতা হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ওই নিষিদ্ধ মিছিলের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে আজ শনিবার বিকেলে একই বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপি ও জামায়াতের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সাধারণ নেতা-কর্মীরা যে যাঁর মতো বাঁধেরহাট বাজার ত্যাগ করছিলেন।

Model Hospital

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক এই সময়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা গোপন সূত্রে খবর পান যে, পাশের কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের নেতৃত্বে একদল আওয়ামী লীগ সমর্থক পশ্চিম শুল্লাকিয়া গ্রামের একটি দলীয় কার্যালয়ে বসে আরেকটি ঝটিকা মিছিলের গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ছাত্রদলের একদল উত্তেজিত কর্মী ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের ওই অফিস ঘরের সামনে জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

হামলার শুরুর দিকেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্রমিক দলনেতা মো. হৃদয়ের মাথা ফেটে যায় এবং সমান্তরালভাবে চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমও আহত হন। ঘটনার জেরে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে একটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার বিপরীতে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীরাও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়টি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। সন্ধ্যায় নিজেদের শীর্ষ নেতা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা শহর থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও কয়েক শ ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ও সমর্থক কালাদরাপ ইউনিয়নে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আবির অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমার ভাইকে অফিস থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও মারধর করলে এলাকাবাসী তাদের প্রতিরোধ করে। পরে সন্ধ্যায় তারা আমাদের বাড়িতে অন্যায়ভাবে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।’ অপরদিকে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ পাল্টাপাল্টি দাবি করে বলেন, ‘আমরা শহর অভিমুখে শান্তিমতো ফেরার পথে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর অতর্কিত কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে।’

ঘটনার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুধারাম মডেল থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং নোয়াখালী ক্যাম্প থেকে র‌্যাব-১১ এর সশস্ত্র সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘটনাস্থল থেকে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হামলা, ভাঙচুর ও দুটি পৃথক অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে আমি নিজে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিই। বর্তমানে পুরো এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেআইনিভাবে হামলা ও সরকারি আইন অমান্য করার ঘটনায় জড়িত উভয় পক্ষের অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তীতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।