মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমির আয়োজনে দেশীয় ফল উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৭ পিএম
চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমির আয়োজনে দেশীয় ফল উৎসব

দেশীয় ফলের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চাঁদপুর চিল্ড্রেন একাডেমির উদ্যোগে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেছ বাজারস্থ বিদ্যালয়ের হলরুমে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের নার্সারি থেকে ৫ম শ্রেণীর প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

তারা দেশজ ফল আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেয়ারা, লিচু, লটকন, করমচা, কাঠ লিচু নুইন্না, করা, আমড়া, কামরাঙ্গাসহ নানা ধরনের ফলের পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি এসব ফলের পুষ্টিগুণ, ঔষধি উপকারিতা এবং মানবদেহের জন্য গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করে। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল ও শিক্ষণীয়। উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা ও দেশীয় ফল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ফল উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে শ্রেণিভিত্তিক তিনজন করে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল বাসার শেখ, অধ্যক্ষ আসমা খানম, ইনচার্জ রুহুল আমিন রাসেল। পরে বিজয়ীদের হাতে উপহার ও সম্মাননা তুলে দেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষকরা। অনুষ্ঠান শেষে সবাই মিলে একসাথে ফল খাওয়ার উৎসব আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল বাসার শেখ বলেন, কোমলমতি শিশুদের দেশীয় ফল চেনানো এবং দেশীয় ফলের গুনাগুন সম্পর্কে জানানোর জন্যই এই আয়োজন। ‌এমন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা দেশীয় ফল সম্পর্কে জানতে পারবে। ‌পাশাপাশি এই উৎসবের অংশ নিতে পেরে শিশুরা যে আনন্দ পেয়েছে, তা তাদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এমন আনন্দঘন ও উৎসবমুখর আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আসমা খানম বলেন, শিশুদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান ও সাবিনা ইয়াসমিনের যৌথ উপস্থাপনায় ফল উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহানা চৌধুরী, পরিচালক জাকির হোসেন চৌধুরী, সুমন শীল চন্দ্র, বাবুল সর্দার। ফল উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমেনা বেগম, রাবেয়া আক্তার জুঁই, শাহানারা আলম, শিখা আক্তার, রেশমিন আক্তার, জাকিয়া ইসলাম, মরিয়ম আক্তার প্রেমা, ফারহা দিবা, সুমাইয়া মিম, শারমিন আক্তার, আফরিন আক্তার, ইতি রানী দেবনাথ, নাহিদ নিশাত, রুপা আক্তার, আরিজাসহ সকল শিক্ষকবৃন্দ।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।