শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পুরানবাজারে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্ৰান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
পুরানবাজারে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্ৰান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারে ৩নং ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্ৰান্ড ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩ জুলাই শুক্রবার বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে চাঁদপুর নূরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই আয়োজন করা হয়। ফাইনাল খেলায় মুনলাইট ক্লাবকে ৬-১ গোলে পরাজিত করে ভাই বন্ধু স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন শিরোপা অর্জন করে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার আপ দলের হাতে ট্রফি এবং নগদ অর্থ তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এতে চ্যাম্পিয়ন দলকে ৩০ হাজার টাকা এবং রানার আপ দলকে ১৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেয়া হয়। টুর্নামেন্টে মোট ১২ টি দল অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুল আলম সূর্য।‌ ব্যাবসায়ী ও বিএনপি নেতা হারুন হাওলাদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার হামিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন আহমেদ কাউসার।

বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

Model Hospital

বক্তারা আরো বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তরুণ সমাজকে ক্রীড়া মুখি করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বিরোধী নানা কার্যক্রম করে যাচ্ছেন। আমরা চাই চাঁদপুরের প্রতিটি পাঢড়া মহল্লা এমন মাদকবিরোধী ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়মিত আয়োজন করা হোক। আয়োজকদের এ মহৎ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।

৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহম্মেদ থানায় পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মানিক বেপারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রিয়াদ ছৈয়াল, টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদ, জাবেদ, সাকিব, রহিম ও স্বাধীনসহ‌ এলাকার ক্রীড়াপ্রেমি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

খেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোবারক, ইমরান, রাহাদ, রায়হান, মুন্না, সিয়াম, সজিব, স্বপন, ফাহিম, ইমন, ছোট সিয়াম, শান্ত, রিয়াদ হোসেন, জোহান, মাহাদী ও ইবু।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।