বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই এমপির উদ্যোগে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেটে নতুন ট্রেনের অগ্রগতি, চালু হবে বন্ধ লোকাল ট্রেনও

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪১ এম
দুই এমপির উদ্যোগে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেটে নতুন ট্রেনের অগ্রগতি, চালু হবে বন্ধ লোকাল ট্রেনও

দীর্ঘদিনের দাবির পর চাঁদপুরবাসীর জন্য সুখবর এসেছে। চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে লোকসানের অজুহাতে পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল ট্রেনগুলোও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ ও চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের যৌথ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

গত ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে (স্মারক নং- ০৩. ০০. ২৬ ৯০. ০০০.০০৫.১৪.০০০১.২৬-২২৭) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।পত্রে উল্লেখ করা হয়, সংসদীয় আসন ২৬২ (চাঁদপুর-৩)-এর সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ এবং সংসদীয় আসন ২৬৪ (চাঁদপুর-৫)-এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৃথক আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু এবং পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনসমূহ পুনরায় সচলের আবেদন জানান।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

Model Hospital

দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর থেকে সরাসরি কক্সবাজার ও সিলেটে রেল যোগাযোগ না থাকায় জেলার হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অন্যতম ভরসা হিসেবে পরিচিত কয়েকটি লোকাল ট্রেন লোকসানের কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ফলে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পাশাপাশি বন্ধ লোকাল ট্রেন পুনরায় চালুর দাবিও দীর্ঘদিনের ছিল।

এ বিষয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, “চাঁদপুরের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমাদের যৌথ আবেদনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সাড়া দেওয়ায় আমরা চাঁদপুরবাসীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, “চাঁদপুর-কক্সবাজার ও চাঁদপুর-সিলেট রুটে সরাসরি ট্রেন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে আমরা দুইজন সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চাঁদপুরের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি), কোচ ও বগির প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই নির্দেশনার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী  ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। দ্রুত নতুন ট্রেন চালু এবং বন্ধ লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু হলে জেলার যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।