শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপের ফাইনালে

তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফেরাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : লায়ন হারুনুর রশিদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফেরাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : লায়ন হারুনুর রশিদ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) শেষ বিকেলে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহ্রদ-রুস্তমপুর হাজী আবদুর আহাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সকল প্রকার সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আয়োজকরা প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফেরাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
রূপসা জমিদার পরিবারের সদস্য সৈয়দ মেহেদী হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নাদিম চৌধুরী। তিনি বলেন, “খেলাধুলার মাধ্যমেই আমরা তরুণ সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশব্যাপী ক্রীড়াসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।”
কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী দলের মুখপাত্র মেঘলা আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এ ধরনের আয়োজন সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও জোরালো করে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন আলম মোল্লা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক আবদুল আজিজ। তাঁরা টুর্নামেন্টটি সফল করতে আর্থিক ও কায়িক পরিশ্রম দিয়ে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে আকর্ষণীয় ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠজুড়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।