শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলায় দুই কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
কচুয়ায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলায় দুই কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি

নিশিন্তপুর ডিএস ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার কেন্দ্র।

​চাঁদপুরের কচুয়ায় চলমান আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা চলাকালীন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ​পরীক্ষা চলাকালীন হলরুমের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় কেন্দ্রের সুপারভাইজিং কর্মকর্তা ওয়াসিম এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন, আল ফাতেহা আলিম মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী মোশারফ হোসেন এবং কোমরকাশা আলিম মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মোতাহার হোসেন।

জানা যায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার খাতা বিতরণের পর পরীক্ষার্থীরা যখন তাদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করবে, কেবল তখনই দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে খাতার নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করার কথা। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার আগেই খাতার নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করে ফেলেন, যা প্রচলিত নিয়ম ও নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিশিন্তপুর ডিএস ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোঃ ফখরুদ্দিন। তিনি বলেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সেই ধারাবাহিকতাতেই দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত ওই দুই পরিদর্শককে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

Model Hospital

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।