শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
জামিনে বেরিয়ে বাদী-সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামে চার বছর আগে দায়ের হওয়া একটি হামলা মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাদী ও মামলার সাক্ষীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মামলার নথি ও বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে মোল্লাডহর গ্রামে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সুজন, রুবেল, আলমগীর সরদার, সাদেক মিয়া ও ফারুক আহত হন। তাঁদের প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

ঘটনার পরদিন ১ এপ্রিল মীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর আলম সরদার বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর-১০৮/২০২১।

বাদীপক্ষের দাবি, মামলার দুই আসামি আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হন। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত রাহেম আলী ও তাঁর ছেলে রাব্বি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাদীপক্ষ।

Model Hospital

বাদীর অভিযোগ, এসব কারণে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হুমকির ঘটনায় তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, রাহেম আলী দেশে ফিরেছেন বলে শুনেছেন, তবে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ‘বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, সে আমার আত্মীয় হলেও নয়। বাদী বা সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘এ ধরনের হুমকির বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।